ফোরটিন ডেস্ক : চলমান তীব্র গ্যাস-সংকটের সঙ্গে কয়লা ও তরল জ্বালানির সরবরাহস্বল্পতা যোগ হওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ধস নেমেছে। সেই সঙ্গে বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে আকস্মিক কারিগরি ত্রুটি ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বন্ধ রয়েছে উৎপাদনে থাকা একাধিক ইউনিট। এতে করে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট, ২০২৬) এক দিনেই সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছে, যা রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে তীব্র জনভোগান্তি তৈরি করেছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পিজিসিবির তথ্যমতে, দেশে মোট ১৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৬২টিতেই উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে, যার মধ্যে ২০টি কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ ছিল। পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিট এবং বড়পুকুরিয়ার দুটি ইউনিটে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এমনকি ভারতের ঝাড়খন্ড থেকে আসা আদানির কেন্দ্র থেকেও পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ মিলছে না। দেশে বর্তমানে প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি ও অর্থ সংকটে অর্ধেকেরও বেশি সক্ষমতা অব্যবহৃত পড়ে আছে।
পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, অর্থাভাব ও জ্বালানি সংকটের কারণে চাইলেই তেলচালিত কেন্দ্রগুলো থেকে সার্বক্ষণিক উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম মনে করেন, অযোগ্য জাহাজে এলএনজি কেনা কিংবা অনভিজ্ঞ কোম্পানির ওপর নির্ভরতার কারণে খাতটিতে বিশৃঙ্খলা ও সংকট কাটছে না। দীর্ঘদিনের বকেয়া মেটানো এবং কাঠামোগত সংস্কার না করা গেলে সামনের দিনগুলোতে শিল্প খাত ও পারিবারিক জীবনের এই দুর্ভোগ আরও চরম রূপ নেবে বলে সতর্ক করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
