নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর : রংপুরে মাত্র ৮ মাসের ব্যবধানে নিজ বাড়িতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত দুজন সংখ্যালঘু শিক্ষক এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। আট মাস আগে ঘটা চাঞ্চল্যকর একটি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ করে পুলিশ আদালতে চার্জশিট জমা দিতে না পারায় নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। প্রবীণ ও সম্মানিত শিক্ষকরাই কেন বারবার টার্গেট হচ্ছেন—এই প্রশ্ন তুলে নিজ ঘরে জীবনের শেষ প্রান্তে থাকা মানুষদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর রংপুরের তারাগঞ্জের উত্তর রহিমাপুর এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক শিক্ষক যোগেশ চন্দ্র রায় (৭৫) এবং তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়ের (৬০) রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় রাজমিস্ত্রি মুরসালিনকে গ্রেপ্তার করা হলে সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। কিন্তু এত দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও মামলার চার্জশিট জমা না হওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়া আটকে আছে।
এই ঘটনার ক্ষত না শুকাতেই গত ২২ আগস্ট (২০২৬) রংপুর নগরীর দাসপাড়ায় রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে নিজ বাড়িতে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরপর দুটি একই ধাঁচের ঘটনায় রংপুরের সংখ্যালঘু ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পরিবারগুলোর মধ্যে গভীর নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সাবেক শিক্ষক ও আইনজীবীরা বলছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষ বিচার না হলে এই অপশক্তিকে থামানো সম্ভব নয়।
তারাগঞ্জ কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. তাজমুল ইসলাম তাজু বলেন, শিক্ষকরা সমাজ গড়ার কারিগর। জীবনের শেষ সময়ে এসে নিজ ঘরে তাঁদের এভাবে প্রাণ দিতে হলে তা পুরো জাতির জন্যই লজ্জার। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘসূত্রতা বন্ধ করে পুলিশকে প্রতিটি ঘটনার পেছনের মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে হবে এবং দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
