ফোরটিন ডেস্ক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ফাঁদ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত বাড়তি ট্যারিফের জেরে গত এক বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ মোট ১.৫ বিলিয়ন (প্রায় ১৪৭ কোটি) মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হারিয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া এবং পাকিস্তান ওই প্রধান দুই বাজারে নিজেদের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।
মার্কিন বস্ত্র দপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা ও শুল্কনীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৩.৭৫ শতাংশ বা ২৮ কোটি ডলার কমেছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের হিসেব অনুযায়ী, ইইউ জোনে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১১৯ কোটি ডলার।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশে দীর্ঘদিনের তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, অতিরিক্ত লিড টাইম এবং শুধুমাত্র কটনির্ভর একই ধরনের ঐতিহ্যবাহী পোশাক রপ্তানির প্রবণতা বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে পিছিয়ে দিচ্ছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ সংকট থেকে উত্তরণে সরকারকে জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাণিজ্যবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা দিতে হবে। অন্যদিকে উদ্যোক্তাদেরও নন-কটন পণ্যের বৈচিত্র্যকরণে এগিয়ে আসা জরুরি।
এদিকে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু জানিয়েছেন, বায়িং হাউসগুলো শুল্ক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে, তাই টিকে থাকতে হলে কারখানাগুলোর নিজস্ব দক্ষতা (এফিশিয়েন্সি) বাড়ানোর বিকল্প নেই। এমন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সাশ্রয়ী উৎপাদন ক্ষমতার জোরে স্নোটেক্সের মতো কিছু শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান প্রতি বছর ১৫-২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বজায় রেখে চলতি বছর ৩২০ মিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে যাচ্ছে।
