নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার আশুলিয়ায় ৫ বছর বয়সী শিশু আব্দুর রহমানকে হত্যার পেছনে তার বাবার সঙ্গে অভিযুক্তের ব্যক্তিগত আক্রোশ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। দ্বিতীয় দফার রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আটক প্রতিবেশী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (২৭) এই কথা স্বীকার করেন। আজ বুধবার দুপুরে আশুলিয়া থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
এর আগে গত ১৯ আগস্ট নিখোঁজের তিন ঘণ্টা পর আশুলিয়ার ভাদাইল পশ্চিমপাড়া এলাকার চারতলা ভবনের ছাদ থেকে শিশু আব্দুর রহমানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আলামত পরীক্ষার পর ওই ভবনেরই নিচতলার বাসিন্দা সাইফুল ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রথমে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে পুলিশের উদ্ধার করা আলামতের মুখে দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন তিনি।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, শিশুটির বাবার সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে ঘরের ভেতর উচ্চশব্দে গান বাজিয়ে নৃশংসতা চালান সাইফুল। শিশুটির হাত-পা ফিতা দিয়ে বেঁধে মুখে চাল ও পলিথিন ঢুকিয়ে গলায় স্কচটেপ পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিতের পর মরদেহ বস্তায় ভরে ছাদের হাঁসের খামারের নেটের নিচে ফেলে আসেন তিনি।
পুলিশ জানায়, নিহত শিশুটির বাবা আগে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং অভিযুক্ত সাইফুল মূলত বেকার। ঠিক কী কারণে তাদের মধ্যে এই আক্রোশ তৈরি হয়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত বের করতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।
