নিজস্ব প্রতিবেদক, নেত্রকোনা : নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ভিডিও ধারণ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে লাগাতার দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে ওই ছাত্রী। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পরই আবু মিয়া (৩৬) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে প্রধান আসামি কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক বকুল মিয়া বর্তমানে পলাতক।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট, ২০২৬) কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রধান আসামি বিএনপি নেতা বকুল মিয়াসহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে বিএনপি নেতা বকুল মিয়া ওই ছাত্রীকে একটি বাড়িতে নিয়ে প্রথম ধর্ষণ করে এবং তা গোপনে মুঠোফোনে ধারণ করে রাখে। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ব্ল্যাকমেইল ও নির্যাতন চালানো হয়। এরপর ২০২৫ ও ২০২৬ সালেও বকুলের নেতৃত্বে চক্রটি ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার দলবদ্ধ ধর্ষণ করে।
গত ১ আগস্ট ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে এবং পরবর্তীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাকে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান। এই নির্মম ঘটনা নিয়ে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, বিষয়টি তাঁরা জেনেছেন এবং অভিযুক্ত বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে দ্রুতই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
