নিজস্ব প্রতিবেদক : ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখার সিপাহি রাকিব রায়হানকে (৪০) নৃশংসভাবে হত্যার পর গরু কাটার কাঠের খাটিয়ায় রেখে দেহের ১৫টি টুকরো করার রোমহর্ষক ঘটনায় দুই ঘাতককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (২৬ আগস্ট, ২০২৬) দুপুরে নিহত কাস্টমস কর্মীর নিজের বাড়ি থেকেই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা চাপাতি, লোহার রড, তিনটি ছুরি এবং রক্তমাখা জামাকাপড়সহ মাটিচাপা দেওয়া বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন নিহত রাকিবের বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা ও তার চাচাতো ভাই জিতুল। গত মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে সিলেটের শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফুলবাড়ীয়া থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। ত্রিশাল সার্কেলের এএসপি এস এম হাসান ইস্রাফীল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় কর্মরত রাকিব প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসতেন। গত ২৩ জুলাই বাড়িতে আসার পর ২৪ জুলাই বিকেল থেকে তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। পরে ২৭ জুলাই রাকিবের বড় ভাই ফুলবাড়ীয়া থানায় জিডি করলে কেয়ারটেকার রাজু ও তার সহযোগী পালিয়া যায়। এর পর ২ আগস্ট বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত পুকুর থেকে ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় রাকিবের ১৫ টুকরো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ জানিয়েছে, মূলত বিপুল পরিমাণ টাকার লোভেই কেয়ারটেকার রাজু ও তার ভাই মিলে এই পরিকল্পিত হত্যা মিশন বাস্তবায়ন করে। রাকিবকে হত্যার পর বাড়িতে থাকা মাংস কাটার কাঠের গুঁড়িতে রেখে লাশ টুকরো টুকরো করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
