নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর : রংপুর নগরীর একটি তালাবদ্ধ বসতঘর থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক সম্মানিত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যের গলিত ও পচা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত অপর তিনজন হলেন তাঁর স্ত্রী, প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে এবং ছেলে। একটি বন্ধ ঘরে পুরো পরিবারের লাশ পাওয়ার এই নৃশংস ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য, ভয় ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরীর ওই বাসাটি গত বেশ কিছুদিন ধরে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। আজ ঘরের ভেতর থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয় এবং তাঁরা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের তালা ভেঙে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে। বর্তমানে অপরাধের আলামত ও রহস্য উন্মোচনে পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি ও ফরেনসিক টিম কাজ শুরু করেছে।
এই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর শোক, ক্ষোভ ও স্তব্ধতা প্রকাশ করেছে রংপুর জিলা স্কুল পরিবার। সাবেক একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও তাঁর পুরো পরিবারকে এভাবে রহস্যজনকভাবে হারানোর ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বের করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক ও সাবেক শিক্ষার্থীরা জানান, এটি যদি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে, তবে কালবিলম্ব না করে এতে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মৃত্যু সময় ও কারণ নিশ্চিত হতে উদ্ধারকৃত চারজনের মরদেহ সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
