ফোরটিন ডেস্ক : নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২০২৫ পঞ্জিকাবর্ষের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব (বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন) জমা না দেওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সহ নিবন্ধিত সাতটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও দলগুলো আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেয়নি, এমনকি সময়সীমা বাড়ানোর কোনো আবেদনও করেনি।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, এই সাতটি দলের মধ্যে তিনটি একদম নতুন নিবন্ধিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জনতার দল এবং আমজনতার দল। বাকি চারটি দল হলো বাংলাদেশ জাসদ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, তৃণমূল বিএনপি এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দলগুলো নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দিলেও, বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী গঠিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বিধিমালা ২০০৮-এর ৯(খ) বিধি অনুসারে, প্রতি পঞ্জিকাবর্ষের প্রতিবেদন পরবর্তী বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে এবার ছুটির কারণে ২ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। ইসির চিঠির পর ৫৯টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৩৮টি নির্ধারিত সময়ে হিসাব জমা দেয় এবং ১৩টি দল সময় বাড়ানোর আবেদন করায় তাদের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু এনসিপিসহ এই সাতটি দল কোনো পদক্ষেপই নেয়নি।
এ বিষয়ে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানান, সময়মতো প্রতিবেদন না দেওয়া সরাসরি আইন লঙ্ঘনের শামিল। যে দলগুলো হিসাব জমা দেয়নি, তাদের বিষয়ে শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। আরপিওর ৯০(এইচ) ধারা অনুযায়ী, টানা তিন বছর তথ্য দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধন বাতিলেরও বিধান রয়েছে।
