ফোরটিন ডেস্ক : ভিক্ষাবৃত্তি, নানাবিধ অপরাধ এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই—এই সাড়ে চার মাসের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ২০ হাজারেরও বেশি পাকিস্তানি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি দেশটির জাতীয় সংসদে পেশ করা নারকোটিক্স কন্ট্রোল মন্ত্রণালয়ের এক নথিতে এই চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাকিস্তানি নাগরিকদের বহিষ্কার করার তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে সৌদি আরব। দেশটি এককভাবে সর্বাধিক ১৫ হাজার ৫০০ জন পাকিস্তানিকে ফেরত পাঠিয়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যারা ৩ হাজার ৮০৩ জনকে দেশে পাঠিয়েছে। এছাড়া ওমান থেকে ১ হাজার ৬০৬ জন, বাহরাইন থেকে ৫২১ জন, কাতার থেকে ৪২৯ জন এবং কুয়েত থেকে ৯৭ জন পাকিস্তানিকে ফেরত পাঠানো হয়।
উপসাগরীয় দেশগুলোর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, কেবল অবৈধভাবে অবস্থান বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়াই নয়; বরং প্রকাশ্যে ভিক্ষাবৃত্তি, মাদক কারবার, জালিয়াতি এবং বিভিন্ন মারাত্মক অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফেরত পাঠানোদের মধ্যে ৪ হাজার ৬২৮ জন বিভিন্ন মামলার সাজাপ্রাপ্ত বা পলাতক আসামি ছিলেন এবং ৯৬৮ জনকে চিরতরে কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করা হয়েছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার সময় স্পর্শকাতর সামরিক স্থাপনাসমূহ ও হামলার ছবি বা ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অপরাধেও বেশ কিছু পাকিস্তানিকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করে বহিষ্কার করা হয়। পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয়ভাবে ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে যাঁদের ফেরাতে হয়েছে কেবল তাঁদের হিসাবই সংসদে এসেছে; ফলে প্রকৃত বহিষ্কৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
