রাজশাহীতে বিএনপির মৃত ওয়ার্ড সভাপতির নামে ইস্যু করা কার্ড ব্যবহার করে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাজশাহী মহানগর বিএনপির ২১ ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। গত ২০ আগস্ট পৃথক চিঠিতে তাদের শোকজ করা হয়।
বোয়ালিয়া থানা (পূর্ব) বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম নিপু ও সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন স্বাক্ষরিত নোটিসে তাদের শোকজ করা হয়েছে। চিঠিতে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সন্তোষজনক জবাব না দিলে দলীয় গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, নগরীর ২১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এস শহীদ আহমেদ বাদল মারা গেছেন। অথচ ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক কুদরতি খোদা মাহবুব মৃত সভাপতির নামে ইস্যুকৃত কার্ড ব্যবহার করে গত ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত গুলশান কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘সাংগঠনিক আলোচনা সভায় প্রবেশ করেন। শুধু তাই নয়, সাধারণ সম্পাদক কুদরতি খোদা মাহবুব ২১নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুকুল হোসেনের নাম বসিয়ে ২৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি আশরাফ সিদ্দিকী বাবুর কাছে হস্তান্তর করেছেন। এ আচরণ দলীয় শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক নিয়ম-কানুন ও দায়িত্বশীল নেতার জন্য প্রযোজ্য আচরণ বিধির পরিপন্থী বলে প্রতীয়মান হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নোটিশের জবাব লিখিতভাবে তিন কার্যদিবসের মধ্যে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব প্রদানে ব্যর্থ হলে/জবাব অসন্তোষজনক বিবেচিত হলে দলীয় গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অপর নোটিশে বলা হয়, নগরীর ২৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি হওয়া সত্ত্বেও আশরাফ আলী সিদ্দিক বাবু ২১নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদকের নামে ইস্যুকৃত কার্ড ব্যবহার করে বিএনপির চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন। এ বিষয়ে কেন তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার লিখিত ব্যাখ্যা এই নোটিশ প্রাপ্তির তিন কার্যদিবসের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব প্রদানে ব্যর্থ হলে/জবাব অসন্তোষজনক বিবেচিত হলে তার বিরুদ্ধে দলীয় গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দুই নোটিশেই বলা হয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দলীয় শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক নিয়ম-কানুন ও দায়িত্বশীল নেতার জন্য প্রত্যাশিত আচরণের পরিপন্থী। তাই কেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে রাজশাহীর বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এখন শোকজের জবাবের ওপর নির্ভর করছে অভিযুক্ত দুই নেতার বিরুদ্ধে পরবর্তী সাংগঠনিক পদক্ষেপ।
তবে যোগাযোগ করা হলে ২১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কুদরতি খোদা মাহবুব ১৩ আগস্ট বিএনপির চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে সাংগঠনিক সভায় যোগদানের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি বলেন, ‘শোকজের চিঠি এখনো আমি হাতে পাইনি। বাকি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।’
এ বিষয়ে নগরীর বোয়ালিয়া থানা (পূর্ব) বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম নিপু বলেন, শোকজের জবাব হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
