নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : তীব্র গ্যাস সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে দেশের প্রায় ৩০০টি নিট পোশাক কারখানা। চরম জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পকারখানায় উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান হাতিয়ার তৈরি পোশাক খাতে। ইতিমধ্যেই দেড় থেকে প্রায় দুই মিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)।
আজ শনিবার (২২ আগস্ট, ২০২৬) সন্ধ্যায় বিকেএমইএ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এ দুঃসহ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “গ্যাস সংকটের কারণে সব কারখানা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা উৎপাদন করতে পারছি না, সময়মতো বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পাঠানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিকেএমইএ সদস্যভুক্ত ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ রপ্তানিই এখন বড় ঝুঁকিতে। দেশের শিল্পমালিকদের এখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত জুলাইয়ের শেষভাগ থেকেই শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ নামতে নামতে শূন্যের কোঠায় ঠেকেছে। কিছুদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তব চিত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে আন্তর্জাতিক বায়াররা বাংলাদেশে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার শঙ্কায় অন্যান্য দেশে অর্ডার সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। ফলে হাজার হাজার শ্রমিকের বেতন ও পরিচালনা ব্যয় চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
এ সংকট কাটাতে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ছাড়া অন্য সব যানবাহনে আপাতত সিএনজি বা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখাসহ ৬ দফা দাবি জানিয়েছে বিকেএমইএ। দাবির মধ্যে রয়েছে—জুন ও জুলাই মাসের গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া, বিল বকেয়ার জন্য লাইন না কাটা, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নে তিতাসের কঠোর অভিযান এবং কারখানাগুলোকে খেলাপি ঘোষণা না করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিশেষ নির্দেশনা জারি করা।
সংবাদ সম্মেলনে বিজেএমইএ ও বিকেএমইএ-এর সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অবিলম্বে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ভয়াবহ ধস নামবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
