ফোরটিন ডেস্ক : বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের কার্যকর করা বিতর্কিত ‘অভিবাসী ভিসা স্থগিত নীতি’ বাতিল করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়েছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিজের আইনগত এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
গতকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট, ২০২৬) ম্যানহাটানের মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক জ্যানেট ভার্গাস এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত এই বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যে নীতি ঘোষণা করেছিল, তা ‘স্পষ্টতই বেআইনি’ এবং দেশটির কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনের সরাসরি পরিপন্থী। আইনে কোনো আবেদনকারীকে ভিসা দেওয়া না দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এখতিয়ার রয়েছে, কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা সেখানে বেশ সীমিত।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতা গ্রহণের পরই বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, উরুগুয়ে, আলবেনিয়া, বসনিয়াসহ আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করে। যুক্তি দেখানো হয়েছিল, এসব দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তবে বিচারক ভার্গাস স্পষ্ট জানান, আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে এমন ঢালাও নিষেধাজ্ঞা আমেরিকার প্রচলিত আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
‘ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক’ ও ‘আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার’সহ একাধিক মানবাধিকার সংগঠন এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর যৌথ আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই রায় দেন। বিচারকের এই সিদ্ধান্তকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই রায়ের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পররাষ্ট্র দপ্তরের কোনো প্রতিক্রিয়া জানা না গেলেও, স্থগিত থাকা ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত পুনরায় চালু হওয়ার আশা করছেন হাজার হাজার ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনকারী।
