ফোরটিন ডেস্ক : ঢাকার প্রাণকেন্দ্র ও অন্যতম ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা গুলিস্তানের প্রতিটি মার্কেটে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাজার হাজার ব্যবসায়ী ও কর্মচারীর কোলাহল থাকে। তবে ব্যবসা-বাণিজ্যের এই চাঙ্গাভাবের আড়ালে এক নিরব কান্না ও জিম্মিদশার চিত্র উঠে এসেছে। বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ বা চাঁদা আদায়ের প্রচণ্ড চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের গুরুতর অভিযোগ, এই অর্থ আদায়ের নেপথ্যে সক্রিয় রয়েছে একটি কথিত ‘দরবেশ চক্র’। জানা যায়, চক্রটির সঙ্গে জড়িত একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন মামলা রয়েছে এবং এদের মধ্যে বিএনপি নেতা ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার বীর মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী আলমের গুম মামলার আসামিও রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও তারা প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায় করত। সরকার পরিবর্তনের পর পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিয়ে নতুন ছকে তারা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু ক্ষমতার দাপট ও নিরাপত্তার ভয়ে প্রকাশ্যে কারো নাম বলতে সাহস পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।
মার্কেটের সরেজমিন চিত্রে দেখা যায়, দোকান পরিচালনার স্বাভাবিক ভাড়ার বাইরে দোকানের সামনের জায়গা ব্যবহার, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা ফিসসহ নানা মনগড়া অজুহাতে নির্দিষ্ট সময় পরপর মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। কেউ টাকা দিতে অস্বীকার করলে সরাসরি হুমকি না দেওয়া হলেও এমন এক কৌশলী মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়, যাতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়ে নীরবে টাকা দিয়ে দিতে হয়। কোনো রসিদ বা নির্দিষ্ট বৈধ খাতের তোয়াক্কা না করেই প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে, যার কোনো স্বচ্ছতা বা হিসাব নেই।
সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিনের অনিশ্চিত বেচাকেনায় দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও কর্মচারীদের বেতন মেটানোর পর এই অতিরিক্ত চাঁদার চাপে অনেকের মূলধনে টান পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সংঘাত এড়িয়ে নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে প্রতিটি মার্কেটে ‘গোপন অভিযোগ বাক্স’ স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, নাম প্রকাশ না করে যদি তথ্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে চাঁদাবাজদের নাম, আদায়ের পরিমাণ ও সিন্ডিকেটের প্রকৃত গন্তব্য সহজেই উন্মোচিত হবে।
