নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : রাজধানীর মালিবাগের ফরচুন শপিং কমপ্লেক্সে এক ব্যবসায়ীকে অভিনব উপায়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট, ২০২৬) দুপুরে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ের চোখের সামনে ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন প্রধানিয়াকে ঘিরে ধরে তাঁর পকেটে জোর করে প্যাকেট ঢুকিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁর পকেট থেকে ৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা জানিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
ভুক্তভোগী ইসমাইল হোসেন ফরচুন শপিং কমপ্লেক্সের দোকান ও ফ্ল্যাট মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, মাস্ক পরা কয়েকজন ব্যক্তি ইসমাইলকে জবরদস্তিমূলক টানাহেঁচড়া করছে এবং একপর্যায়ে তাঁদের একজন ইসমাইলের প্যান্টের পকেটে একটি প্যাকেট গুঁজে দেয়। ইসমাইল ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মেয়েকে চিকিৎসা শেষে নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। মার্কেটের নিচে পৌঁছানোর পরই পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়।
পরিবারের দাবি, মার্কেট নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসায়িক শত্রুতার জেরেই ইসমাইলকে এমন নাটকীয় কায়দায় ফাঁসানো হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার আদালতে জাবেদ রায়হান নামে এক ব্যক্তি ইসমাইলসহ সমিতির বেশ কজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা ঠুকে দেন। সেখানে দাবি করা হয়, দোয়া মাহফিল আয়োজনের নাম করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা চাওয়া হয়েছিল। তবে স্থানীয় সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রভাবশালী বলয় জাল দলিল চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মার্কেট ও কমপ্লেক্স দখলের পায়তারা করছে। তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় ইসমাইলকে টার্গেট করা হয়।
ইসমাইলের বড় ভাই খোরশেদ আলম বাবুল অভিযোগ করে বলেন, “মার্কেটের দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। প্রভাব খাটিয়ে আমাদের পরাস্ত করতে না পেরে অবশেষে কোমলমতি মেয়ের সামনে আমার ভাইয়ের পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে চরম হয়রানি করা হচ্ছে।”
এদিকে, প্রথমে সিসিটিভি ফুটেজ না দেখেই সরাসরি মাদক ও চাঁদাবাজির মামলায় ইসমাইলকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছিল রমনা থানা পুলিশ। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফুটেজটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ বিষয়ে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসিন মিয়া জানান, তল্লাশির সময় পকেটে ইয়াবা পাওয়ায় মামলা রেকর্ড হয়েছিল। তবে ভিডিওটি সামনে আসার পর নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। মব তৈরি করে কাউকে হয়রানি করার প্রমাণ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
