নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা : এক তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং সেই ঘটনার জেরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত হয়ে আলোচনায় আসা সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম আবারও ফেসবুকে সোচ্চার হয়েছেন। নিজের ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি ও চড়াই-উতরাই ভুলে এবার স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দিয়েছেন ন্যায়ের বাণী।
বুধবার (১২ আগস্ট, ২০২৬) সকাল ৮টা ২৩ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলামের কারাবাস ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। চাঁদাবাজির মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন নামঞ্জুর করে ওই চেয়ারম্যানকে সম্প্রতি কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে এমপি গাজী নজরুল দাবি করেন, “হাজী নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার নয়, হাইকোর্টের জামিন নামঞ্জুর করে জেলে পাঠানো এবং তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মুখরোচক অপপ্রচার চালানো মূলত প্রতিপক্ষের কঠিন চক্রান্ত ও গভীর ষড়যন্ত্রের ফল। উল্টো ওই অপপ্রচারে যারা যুক্ত, তারাই শতভাগ দোষী।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও বর্ণচোরারা ‘প্রাসাদ ষড়যন্ত্র’ করে নিজেদের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে। শ্যামনগরবাসীকে এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে শ্যামনগরবাসীকে এখনই রুখে দাঁড়াতে না পারলে শ্যামনগরে ন্যায় ও নিষ্ঠাবান নেতৃত্বের উদ্ভব হওয়া ভবিষ্যতে কঠিন হয়ে পড়তে পারে।”
এর আগে, ওই তরুণীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করা সত্ত্বেও ভিডিওকাণ্ডের জেরে তীব্র সমালোচনা ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের শিকার হন গাজী নজরুল। দীর্ঘদিন নিজের ফেসবুক পাতায় নিস্তব্ধ থাকার পর এবং ভিডিও সংক্রান্ত হত্যাচেষ্টা মামলায় গত সোমবার সাতক্ষীরার আদালত থেকে নিজের জামিন পাওয়ার পরপরই অন্য ইস্যুতে ফেসবুকে ফিরলেন এই বিতর্কিত সংসদ সদস্য।
তবে নিজের কাণ্ড ভুলে হঠাৎ ন্যায়ের বাণী বর্ষণ করায় নেটিজেনদের কটাক্ষের মুখেই পড়েছেন তিনি। তাঁর পোস্টে এস কে সেলিম রেজা নামের এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “আমি আরো ভাবছিলাম আইডি মনে হয় চলে গেছে, এখন দেখা যায় লজ্জা শেষ হয়েছে পোস্ট চালু হয়েছে।”
