নিজস্ব প্রতিবেদক : আগস্টের প্রথম প্রহরে রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে টানানো শোক ও শ্রদ্ধাঞ্জলির ব্যানার সকালে উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রাতের আঁধারে ব্যানার টানিয়ে কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচি পালন করলেও সকাল ১০টার পর সরেজমিনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে আর কোনো ব্যানার দেখা যায়নি। কে বা কারা এসব ব্যানার খুলে ফেলেছে, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতি ও দলীয় কর্মীদের মধ্যে নানামুখী আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ সোহেল রানা টিপুর দিকনির্দেশনায় শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে (আগস্টের প্রথম প্রহরে) দলীয় কার্যালয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
উক্ত কর্মসূচিতে জেলা আওয়ামী লীগ ছাড়াও যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় তারা সবাই কালো ব্যাজ ধারণ করেন এবং ১৫ আগস্টের শোক দিবস উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের অন্য শহীদদের স্মরণে বিশেষ ব্যানার টাঙান।
তবে শনিবার (১ আগস্ট, ২০২৬) সকাল ১০টার দিকে রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, রাতে টাঙানো সেই ব্যানারগুলোর একটিও সেখানে ঝুলছে না। রহস্যজনকভাবে তা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
কর্মসূচির সার্বিক বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ সোহেল রানা টিপু জানান, “১৫ আগস্ট আমাদের জাতীয় জীবনের এক গভীর শোক ও বেদনার দিন। আগস্টের প্রথম প্রহর থেকেই আমরা অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দলীয় কর্মসূচির শুভ সূচনা করেছিলাম। নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।”
তিনি আরও বলেন, “বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চেতনাকে বুকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়াই হবে শহীদদের প্রতি আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি।”
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ড স্মরণ করে প্রতি বছর আগস্ট মাসজুড়ে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে থাকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো।
