বিশেষ প্রতিনিধি : অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের চলমান কঠোর অভিযানের মুখে পড়ে মার্কিন মুলুক থেকে আরও ২৩ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সকাল ১১টায় একটি বিশেষ বিমানে (ফ্লাইট নং: OAE2323) তাঁরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এ নিয়ে ২০২৫ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো বাংলাদেশির মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৯ জনে।
বিমানবন্দরে নামার পর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক, এভিয়েশন সিকিউরিটি এবং ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সমন্বিত উদ্যোগে তাঁদের জরুরি পরামর্শ, খাবার ও গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য তাৎক্ষণিক পরিবহন সহায়তা দেওয়া হয়।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, প্রাথমিক তথ্যানুসারে ফেরত আসা ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ (১৩ জন) নোয়াখালীর বাসিন্দা। এছাড়া সিলেট, কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর ও ঢাকার বাসিন্দাও রয়েছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই ব্রাজিল, বলিভিয়া, পেরু, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া, পানামা ড্যারিয়েন গ্যাপ, গুয়াতেমালা ও মেক্সিকোসহ প্রায় ১৩ থেকে ১৫টি দেশ পায়ে হেঁটে এবং বাসে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পথে অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন।
এই ভয়াবহ ও অবৈধ যাত্রায় জনপ্রতি প্রায় ৫০ থেকে ৬৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হলেও মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে আটক হয়ে শূন্য হাতে তাঁদের দেশে ফিরতে হলো। যুক্তরাষ্ট্রে কাজ শুরু করার পর প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তারা অভিবাসন পুলিশের নজরদারিতে পড়েন এবং গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ আইনি জটিলতা শেষে ডিপোর্টেশনের শিকার হন।
ব্র্যাকের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য অভিবাসীদের প্রতি দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে কোটি টাকা নষ্ট না করে বৈধ, নিরাপদ ও সুনির্দিষ্ট নিয়মে বিদেশ যাওয়ার জোর আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নথিপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে বর্তমানে আইনি ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে।
