বিশেষ প্রতিনিধি : ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা নিয়ে ক্ষমতায় এসে ১৮ মাস দেশ পরিচালনার পর বিদায় নেওয়া ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ ও গভীর তদন্ত এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান বিএনপি সরকারের নীতিনির্ধারক, মন্ত্রী এবং স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ইউনূস আমলের দুর্নীতির তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) দায়িত্ব দেওয়ার দাবির পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, “আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে বিলীন হওয়ার পর বিএনপিকেও রাজনীতি থেকে মাইনাস করে জামায়াত ও এনসিপিকে ক্ষমতায় বসানোর একটি নীল নকশা বা পরিকল্পনা ছিল ড. ইউনূসের। তিনি নির্বাচন না দিয়ে দীর্ঘদিন ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চেয়েছিলেন।”
এর আগে জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদও অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলের দুর্নীতি ও অনিয়মের তদন্ত চেয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্রে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। ইউনূস সরকারের দেড় বছরে বিচারক নিয়োগ, সরকারি কর্মকর্তা পদায়ন, পুলিশের পোশাক কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে টিকার মতো সংবেদনশীল খাতেও যেসব অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান সংবিধানের এই মৌলিক নীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ‘হোয়াইট কলার ক্রিমিনাল’দেরও অপরাধের জন্য আদালতের মুখোমুখি করতে হবে। বিশেষ করে, বিদায়ী সরকারের একাধিক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে পতিত আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের সম্পদ দেখভাল করা, অবৈধ সুবিধা নেওয়া এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের বিপুল ঘুষ কেলেঙ্কারির যে অভিযোগ উঠেছে, থমকে থাকা সেসব তদন্ত দ্রুত শেষ করা দরকার।
একইভাবে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য উল্লেখ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের স্বার্থবিরোধী কিংবা এখতিয়ার বহির্ভূত কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদন করেছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
যেহেতু দেশের সর্বোচ্চ আদালত আবারও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনেছেন এবং ভবিষ্যতে প্রতি ৫ বছর পরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশ পরিচালনা করবে সেহেতু ইউনূস সরকারের ভুল-ত্রুটি, ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন এবং অনিয়ম থেকে শিক্ষা নিয়েই আগামীর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইনি রূপরেখা সুনির্দিষ্ট করা উচিত। আর এ কারণেই ড. ইউনূস ও তাঁর সহযোগীদের ১৮ মাসের রাজত্বের একটি নির্মোহ ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত আবশ্যক।
