ফোরটিন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন বা স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক সফরের ক্ষেত্রে প্রচলিত ভিসা ছাড়াই প্রবেশের সুযোগ রয়েছে ৪২টি দেশের নাগরিকদের জন্য। এসব দেশের যোগ্য নাগরিকদের দূতাবাস বা কনস্যুলেটে প্রচলিত ভিসার আবেদন না করে ইলেকট্রনিক সিস্টেম ফর ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইএসটিএর মাধ্যমে ভ্রমণের অনুমোদন নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রাম (VWP) নামে পরিচিত। কর্মসূচির আওতাভুক্ত দেশের যোগ্য নাগরিকরা সাধারণত পর্যটন বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে বৈধ ইএসটিএ অনুমোদন থাকতে হয়।
বর্তমানে ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামে ৪২টি দেশ রয়েছে। তালিকায় ইউরোপের পাশাপাশি এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশও রয়েছে।
তালিকাভুক্ত দেশগুলো হলো অ্যান্ডোরা, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ব্রুনেই, চিলি, ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইসরায়েল, ইতালি, জাপান, লাটভিয়া, লিশটেনস্টাইন, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, মোনাকো, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, কাতার, সান মারিনো, সিঙ্গাপুর, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান এবং যুক্তরাজ্য।
কাতার এই কর্মসূচিতে সর্বশেষ যুক্ত হওয়া দেশ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র কাতারকে ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করে। একই বছরের ২১ নভেম্বর থেকে কাতারের নাগরিকদের জন্য ইএসটিএ আবেদন চালু হয়।
ইএসটিএ যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের পরিচালিত একটি অনলাইন ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামের আওতায় কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য যোগ্য কি না, তা আগেই যাচাই করা হয়। তবে ইএসটিএ অনুমোদন পাওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিশ্চিত হওয়া নয়। প্রবেশপথে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন মার্কিন সীমান্ত কর্মকর্তারা।
ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামের সুবিধা নিতে ভ্রমণকারীদের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। এর মধ্যে বৈধ ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট থাকা এবং অনুমোদিত ভ্রমণ উদ্দেশ্য অন্যতম।
এ ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু দেশে ভ্রমণ বা অবস্থানের ইতিহাস থাকলে ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামের সুবিধা পাওয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১ মার্চের পর উত্তর কোরিয়া, ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া বা ইয়েমেনে ভ্রমণ বা অবস্থান করলে সাধারণত এই কর্মসূচির আওতায় ভ্রমণের যোগ্যতা হারাতে হতে পারে। একইভাবে ২০২১ সালের ১২ জানুয়ারির পর কিউবায় ভ্রমণ বা অবস্থানের ক্ষেত্রেও কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ভিসা প্রয়োজন হতে পারে।
তবে ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামের আওতায় থাকা মানেই কোনো দেশের প্রত্যেক নাগরিক কোনো শর্ত ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন, এমন নয়। ভ্রমণের উদ্দেশ্য, পাসপোর্ট, ইএসটিএ অনুমোদন এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়।
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামের ৪২ দেশের তালিকায় নেই। ফলে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন বা স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক ভ্রমণের ক্ষেত্রেও সাধারণত প্রচলিত ভিসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে আরও কিছু পরিবর্তন এসেছে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নির্দিষ্ট অভিবাসন ভিসার ক্ষেত্রে সাময়িক স্থগিতাদেশ কার্যকর হয়েছিল। পরে ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে আদালতের আদেশের পর ওই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে।
এদিকে নির্দিষ্ট ধরনের ভিজিটর ভিসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ডের ব্যবস্থাও রয়েছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা হয়েছে।
ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামের ৪২ দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ইউরোপীয় দেশ। এশিয়ার মধ্যে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনেই ও তাইওয়ান রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইসরায়েল ও কাতার এই কর্মসূচির অংশ। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডসহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নাগরিকরাও এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে পর্যটন ছাড়াও অনুমোদিত ব্যবসায়িক সফর করা যায়। তবে চাকরি, দীর্ঘমেয়াদি পড়াশোনা, স্থায়ী বসবাস বা অনুমোদিত নয় এমন অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করা যায় না।
অর্থাৎ, ৪২ দেশের তালিকায় থাকা নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণ তুলনামূলক সহজ হলেও এটি সম্পূর্ণ শর্তমুক্ত প্রবেশাধিকার নয়। আর বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ক্ষেত্রে বর্তমানে এই সুবিধা প্রযোজ্য নয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন বা ব্যবসায়িক সফরের জন্য বাংলাদেশিদের প্রচলিত ভিসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যেতে হয়।
