নিজস্ব প্রতিবেদক : হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’কে কেন্দ্র করে চরম সহিংসতা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই, ২০২৬) অতর্কিত হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
পুলিশের উপস্থিতিতেই চালানো এই নৃশংস হামলায় এনসিপির একাধিক নেতাকর্মীর পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন সংবাদকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এনসিপি সূত্রে জানা যায়, পূর্বনির্ধারিত পদযাত্রা কর্মসূচিতে অংশ নিতে এনসিপির শীর্ষ নেতারা হবিগঞ্জে পৌঁছালে এই হামলার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে এনসিপির মিডিয়া উইংয়ের সদস্যদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাস হবিগঞ্জ জেলা সার্কিট হাউজের সীমানার ভেতরে প্রবেশ করায়। কিন্তু হামলাকারীরা চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় ওই স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং সেখানে থাকা এনসিপির গাড়িতে নারকীয় তাণ্ডব ও ভাঙচুর চালায়।
এ সময় সার্কিট হাউজের ভেতরেই পেশাগত দায়িত্ব পালনরত একাধিক সাংবাদিককে বেধড়ক মারধর করা হয়। একই সাথে সাংবাদিকদের সঙ্গে থাকা পেশাগত কাজের ক্যামেরা, মেমোরি কার্ড ও ব্যবহারের মোবাইল ফোন ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীরা।
ঘটনার আকস্মিকতায় জেলা সার্কিট হাউজ ও আশপাশের এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এনসিপির স্থানীয় নেতাদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতেই প্রকাশ্য দিবালোকে কীভাবে এমন একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ভবনে ঢুকে এই সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালানো হলো—তা নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্ন উঠেছে।
এ ঘটনায় এনসিপির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের চিহ্নিত হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে দলটি। অন্যদিকে, ঘটনার পর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
