নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীতে এক বিধবা নারীকে বিয়ের লোভ দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ এবং কৌশলে ওষুধ খাইয়ে তাঁর গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট (গর্ভপাত) করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি ও পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা শহিদুল পলাতক রয়েছেন।
গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই, ২০২৬) রাতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণীতে জানা যায়, স্বামী মারা যাওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী তাঁর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। সেখানে থাকার সময় পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম তাকে কু-প্রস্তাব দিতে থাকেন। এতে রাজি না হওয়ায় শহিদুল তাকে বিয়ের আশ্বাস দেন।
মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, গত ২৪ মার্চ সকালে শহিদুলের বোনের বাসা দেখানোর কথা বলে তাকে পটুয়াখালী শহরের শেরে বাংলা সড়কের একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাকে প্রথমবার ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত শহিদুল গর্ভের সন্তান নষ্ট করার চাপ দেন। পরবর্তীতে গত ১৮ মে শারীরিক পরীক্ষার কথা বলে ওই নারীকে শহরের একটি ক্লিনিকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক কিছু ওষুধ খাইয়ে দেওয়া হয়। এতে তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান। একদিন পর জ্ঞান ফিরলে ওই নারী জানতে পারেন, জোর করে ওষুধ খাইয়ে তাঁর গর্ভের সন্তানকে মেরে ফেলা হয়েছে।
এই জঘন্য নির্যাতনের বিচার চেয়ে ওই নারী পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক শিরিন নিলা অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানাকে সরাসরি এজাহার গ্রহণ করে আসামির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান জানান, যেহেতু বিষয়টি আদালতে গড়িয়েছে, তাই আদালতই এর সত্যতা ও বিচার নির্ধারণ করবেন। বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, আদালতের আদেশের কপি হাতে পাওয়ার সাথে সাথেই আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার ও আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
