নিজস্ব প্রতিবেদন : যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে স্কাইডাইভিং করার সময় আকস্মিক এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২৮ বছর বয়সী এক তরুণ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যু হয়েছে। নিহত মানি চন্দ্র তেজা গাদ্দাম বোস্টনের বাসিন্দা এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত। নর্থওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, গত রোববার বিকেল ৪টার দিকে অরেঞ্জ শহরের ‘জাম্পটাউন স্কাইডাইভিং’-এ এই লোমহর্ষক দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্কাইডাইভিংয়ের একপর্যায়ে হঠাৎ প্রবল ও তীব্র দমকা হাওয়া তাকে নিয়ন্ত্রণহীন করে প্রায় ৩০ ফুট নিচে সজোরে আছড়ে ফেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় দ্রুত তাকে পার্শ্ববর্তী আথল শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবার জানিয়েছে, মৃত্যুর সময় গাদ্দামের কাছে ইউনাইটেড স্টেটস প্যারাসুট অ্যাসোসিয়েশনের ‘এ লাইসেন্স’ ছিল, যার মাধ্যমে কোনো প্রশিক্ষকের সরাসরি তত্ত্বাবধান ছাড়াই সম্পূর্ণ এককভাবে স্কাইডাইভিং করার প্রাতিষ্ঠানিক অনুমতি পাওয়া যায়। অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও সাহসী এই তরুণের এমন অকাল ও আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার ও বন্ধু মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গাদ্দামের মৃতদেহ জন্মভিটায় ফিরিয়ে আনা এবং শেষকৃত্যের খরচ মেটাতে খোলা একটি ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe) পেজে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গাদ্দাম ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, দয়ালু ও পরিশ্রমী এক তরুণ, যার জীবনে নতুন কিছু শেখার ও রোমাঞ্চকর চ্যালেঞ্জ নেওয়ার প্রবল আগ্রহ ছিল।
জাম্পটাউন স্কাইডাইভিং কর্তৃপক্ষ এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে জানিয়েছে, মূলত আকস্মিক ও সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত বিরূপ আবহাওয়ার কারণেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তারা নিহত স্কাইডাইভারের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের স্বার্থে তদন্তকারী সংস্থাকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে।
তরুণ এই সফটওয়্যার ডেভেলপারের লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি এক বছরের কিছু বেশি সময় ধরে বোস্টনের স্বনামধন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টসে’ কর্মরত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমানোর আগে তিনি ভারতের হায়দ্রাবাদে তাঁর প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি আমেরিকার নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে কৃতিত্বের সাথে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও কোনো গাফিলতি ছিল কি না তা নিখুঁতভাবে উদঘাটনে বর্তমানে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পুলিশের পাশাপাশি ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) যৌথভাবে গভীর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
