নিজস্ব প্রতিনিধি : “জামিন হয়, কিন্তু মুক্তি মেলে না” দীর্ঘ ২২ মাস ধরে কারাগারে বন্দি থাকা সন্তানকে মুক্ত করতে আদালত আর জেলগেটের দোরগোড়ায় ছুটে বেড়ানো এক বৃদ্ধ বাবার অপেক্ষার অবসান হলো চরম করুণ এক পরিণতিতে। কারাবন্দি সন্তানের শোকে ও মানসিক যন্ত্রণায় অবশেষে স্ট্রোক করে মারা গেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজীবুর রহমানের বৃদ্ধ পিতা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সজীবুর রহমানকে মুক্ত করে ঘরে ফিরিয়ে নিতে গত ২২ মাস ধরে একা একাই আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন তার এই অশীতিপর বাবা। পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে অভিযোগ করা হয়, উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে সজীবের জামিন মঞ্জুর হওয়ার পরও একের পর এক নতুন ও পুরনো মামলায় তাকে বারবার ‘শোন অ্যারেস্ট’ বা গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুনরায় কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হতো।
সন্তানকে কারামুক্ত করার বুকভরা আশা নিয়ে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ঢাকা ও সিলেটের আদালত এবং জেলগেটে অন্তহীন ঘুরেছেন এই বৃদ্ধ। তবে নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে, শেষ পর্যন্ত চোখের সামনে ছেলের কাঙ্ক্ষিত মুক্তি আর দেখে যেতে পারলেন না তিনি। ছেলের এই দীর্ঘ কারাবাস, আইনি জটিলতার বেড়াজাল আর গভীর মানসিক কষ্ট সহ্য করতে না পেরে দিন দিন শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
স্বজনরা জানান, যুবকের মতো বয়সী ছেলের এমন অবর্ণনীয় কষ্ট দেখে মানসিকভাবে একদম ভেঙে পড়েছিলেন সজীবের বাবা। আজ বুধবার (৮ জুলাই) সকালে তীব্র মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি আকস্মিক স্ট্রোক করেন এবং হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর এই আকস্মিক ও বেদনাদায়ক মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় প্রতিবেশীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সজীবুর রহমানের মুক্তির পথ চেয়ে থাকা এক ব্যাকুল বাবার শেষ আকুতি ও দীর্ঘশ্বাস শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর বুকেই রয়ে গেল, পূরণ হলো না।
