নিজস্ব প্রতিনিধি : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) দেওয়া রায়কে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এই রায়কে সম্পূর্ণ ‘অবৈধ ও প্রহসনমূলক’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবিতে দেশব্যাপী একযোগে ব্যাপক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আওয়ামী লীগ ঘোষিত আগামী ১ জুলাইয়ের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১ জুলাইয়ের এই কর্মসূচিকে সর্বাত্মকভাবে সফল করার লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ছাত্রলীগকে রাজপথে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
বিবৃতিতে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃদ্বয় অত্যন্ত জোরালোভাবে উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে উন্নয়নের এক অনন্য রোল মডেল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। নিজস্ব অর্থায়নে ঐতিহাসিক পদ্মা সেতু নির্মাণ, দেশজুড়ে শতভাগ বিদ্যুতায়ন নিশ্চিত করা, ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন এবং দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার মতো ঐতিহাসিক সাফল্যগুলো কোনো কাকতালীয় ঘটনা ছিল না। এটি ছিল একজন নিবেদিতপ্রাণ এবং দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়কের নিরলস সাধনা ও পরিশ্রমের ফসল।
ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করা হয়, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে আইসিটি ট্রাইব্যুনালকে একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের জঘন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য যে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছিল, আজ অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে তা দেশের মানুষের গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার কাজে অন্যায়ভাবে অপব্যবহার করা হচ্ছে।
সংগঠনটি তাদের বিবৃতিতে অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানায়, যে সরকারের সাধারণ জনগণের কাছে কোনো আইনি বা সাংবিধানিক বৈধতা নেই এবং যা জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে গঠিত হয়েছে, তাদের পরিচালিত কোনো ট্রাইব্যুনালের রায়ের কোনো আইনি বা নৈতিক ভিত্তি থাকতে পারে না। সুষ্ঠু, আন্তর্জাতিক মানের এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্তের বৈশ্বিক আহ্বানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সম্পূর্ণ একতরফা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই রায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে দেশের প্রতিটি জেলা, মহানগর, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং প্রতিটি প্রাথমিক সাংগঠনিক কাঠামোকে ১ জুলাইয়ের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে মাঠে থেকে বাস্তবায়ন করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সাথে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রদত্ত সকল রায় অবিলম্বে বাতিল করা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা সকল হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং কারাবন্দি সকল রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
