নিজস্ব প্রতিনিধি : দেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমান ক্ষমতা বলয়ের শীর্ষ নেতাদের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ, নজিরবিহীন দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান বর্তমান রাজনীতির শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এই বিস্ফোরক দাবি তুলেছেন। এই চরম অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেলে তা দেশের সামগ্রিক শাসনব্যবস্থা ও জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক ভয়াবহ সংকটের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও বার্তায় আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান সরাসরি তোপ দাগেন বর্তমান নীতিনির্ধারকদের দিকে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আসলে কারা নিয়ন্ত্রণ করছে? তাঁর দাবি অনুযায়ী, হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমদের মতো নেতারাই এই মন্ত্রণালয় পর্দার আড়াল থেকে পরিচালনা করছেন এবং তাঁদের এই চরম অব্যবস্থাপনার কারণেই দেশে অন্তত ৬০০ শিশুর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু হয়েছে।
ভিডিওতে তারেক রহমান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একদিকে দেশের বিভিন্ন খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার লুটপাট চালানো হচ্ছে, অন্যদিকে এই নেতারা অত্যন্ত বাহাদুরি করে এক টাকাও দুর্নীতি না করার প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো দৃশ্যমান পেশা বা কাজকর্ম না করেও এই ক্ষমতাশীলেরা কীভাবে বিলাসী জীবনযাপন করছেন এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে আধিপত্য ধরে রেখেছেন।
স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি শিক্ষা ও অন্যান্য সেবা খাতের নজিরবিহীন দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরেন এই রাজনৈতিক নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবছর জানুয়ারি মাসে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যপুস্তক পৌঁছানোর কথা থাকলেও সারজিস ও হাসনাতদের সিন্ডিকেটের লুটপাটের কারণে তা জুন-জুলাই মাস পর্যন্ত বিলম্বিত হয়েছে। এই পাঠ্যপুস্তক কেনাকাটা এবং মুদ্রণের পেছনে বিশাল অংকের আর্থিক জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ইতিমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
একই সাথে তিনি ওয়াসা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতের অনিয়ম নিয়ে নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ এবং হান্নান মাসউদের মতো শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে সিরিয়ালি দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তাঁদের পিএস এবং এপিএসদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার ও জালিয়াতির মামলা ইতিমধ্যে সামনে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তারেক রহমান অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই অবুঝ ৬০০ শিশুর মৃত্যুর দায় এই মাস্তানি ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণকারীদের অবশ্যই নিতে হবে এবং এর কোনো জবাব দেওয়ার যোগ্যতা তাঁদের নেই।
এই স্পর্শকাতর ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক খাত নিয়ে প্রবাসে থাকা বাংলাদেশী কমিউনিটির মাঝে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রবাসী বাংলাদেশীরা, যাঁরা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের চাকা সচল রাখছেন, তাঁরা নিজ দেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের এমন পতন এবং শিশুদের মৃত্যুর খবরে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। জন্মভূমির এমন অরাজকতা ও শিশুদের অনিরাপদ জীবন প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রেরণের ক্ষেত্রেও গভীর হতাশা ও নেতিবাচক মানসিকতার জন্ম দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সুত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন
