নিজস্ব প্রতিনিধি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে কুমিল্লা দেবীদ্বারে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রকাশের জেরে এক অসহায় দিনমজুর পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর অনুসারীদের বিরুদ্ধে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগ মাঠপর্যায়ে সাধারণ ভোটার ও সাধারণ মানুষের মৌলিক নিরাপত্তা এবং জানমালের সুরক্ষা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। এই চরম বিচারহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ যদি অবিলম্বে দূর করা না যায়, তবে তা দেশের তৃণমূলের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে দীর্ঘমেয়াদে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে বলে আশঙ্কা করছেন সমাজ বিশ্লেষকরা।
ভোটের দিন এক আত্মীয়ের কাছে বিএনপির শরিক দল গণঅধিকারের ট্রাক মার্কায় ভোট চাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। ঘটনার দিন এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দিতে জোর করলে দিনমজুর মহিউদ্দিনের সাথে তাঁদের বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে নির্বাচনের পরের দিন রাতে স্থানীয় বাজারে এনসিপি নেতা আল-আমিনের নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল মহিউদ্দিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে অতর্কিত হামলা চালায় বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হামলার সময় লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মহিউদ্দিনের মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করা হয় এবং তাঁর কাছে থাকা সন্তানের চিকিৎসার জন্য জমানো ১১ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। মহিউদ্দিনের স্ত্রী হ্যাপি বেগম অত্যন্ত আকুল কণ্ঠে জানান, হামলাকারীরা মূলত রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখতে বিএনপি ও এর শরিকদের মাঠ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পৈশাচিক সহিংসতা চালিয়েছে। তাঁর স্বামী বারবার প্রাণভিক্ষা চাইলেও আক্রমণকারীরা কোনো কথা শোনেনি।
ভুক্তভোগীর বড় ভাইয়ের দাবি, ঘটনার পর দেবীদ্বার থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানায় এবং উল্টো “আগুন নিয়ে খেলবেন না” বলে তাঁদের থানা থেকে তাড়িয়ে দেয়। তিনি সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, মুখে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বললেও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ দেবীদ্বারে স্বীয় স্বার্থে আওয়ামী পুনর্বাসনের কাজ করছেন। থানায় বিচার না পেয়ে ভুক্তভোগীর বাবা মনু মিঞা সুরক্ষার স্বার্থে আপোষের চেষ্টা করলেও হাসনাতের অনুসারী ক্যাডাররা তাঁদের অনবরত হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত এনসিপি নেতা আল-আমিন মোল্লা দাবি করেন, তিনি এই মারামারির সাথে জড়িত নন এবং টাকা লুটের বিষয়টিও তাঁর জানা নেই। অন্যদিকে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, এমন কোনো হামলার ঘটনার বিষয়ে তিনি জানেন না এবং নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে কেউ মামলা করতেও থানায় আসেনি।
