নিজস্ব প্রতিনিধি : জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হওয়া দুর্নীতি ও অনিয়মের তদন্ত দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। গত রবিবার সংসদে দেওয়া তাঁর এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে জন-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
বাজেট অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনকালে দেশে সর্বোচ্চ দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে। এসব গুরুতর অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন শ্বেতপত্রের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই এই তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশবাসী শান্তিতে নোবেলজয়ীর নেতৃত্বে নতুন সম্ভাবনার আশা করলেও, দেড় বছরের শাসনকালে অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, আইন-বিচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতিসহ প্রতিটি খাতে অপশাসনের কালো ছায়া স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুততম সময়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিবর্তে সংস্কারের নামে রাজনৈতিক বিভাজন ও অনৈক্য তৈরি করেছিল।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর তথ্য অনুযায়ী ইউনূসের আমলে ঘুষ লেনদেনের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে এবং সুইস ব্যাংকের হিসাব অনুসারে সেখানে টাকা রাখার পরিমাণও সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছেছে। শুধু প্রধান উপদেষ্টাই নন, আসিফ নজরুল, রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমানসহ অধিকাংশ উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও রাষ্ট্রীয় তহবিল অপচয়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে, যেখানে এক উপদেষ্টার চিকিৎসার নামেই প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ের নজির রয়েছে।
আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মৌলিক নীতি অনুযায়ী, অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে একজন অপরাধী এবং সংবিধান মতে আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিক সমান। ড. ইউনূস ও তাঁর উপদেষ্টাদের মতো ‘হোয়াইট কালার ক্রিমিনাল’দের বিচারের আওতায় না আনলে সমাজে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও জেঁকে বসবে এবং পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারগুলোও একই ধরণের অনিয়মের পথে হাঁটার সুযোগ পাবে।
নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা এবং রাষ্ট্রীয় অপচয় বন্ধের যে তিনটি প্রধান অঙ্গীকার করেছিল, তা বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের মব সন্ত্রাস, লুটপাট ও দুর্নীতির আবর্জনা পরিষ্কার করা জরুরি। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ামাত্রই নতুন কমিশনের প্রথম কাজ হওয়া উচিত ড. ইউনূস এবং তাঁর উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে জমা হওয়া সব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা।
