নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে “সুড়ঙ্গের শেষ আলো” (Light at the end of the tunnel) হিসেবে আখ্যায়িত করে রাজনীতিতে এক নতুন মোড় আসার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও তৃণমূলের দাবি, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিএনপি-জামায়াত জোটের বিগত দুই বছরের শাসনকাল দেশে যে তীব্র অস্থিরতা ও ‘মব কালচার’ তৈরি করেছে, তা থেকে মুক্তি পেতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বই এখন একমাত্র ভরসা।
সমালোচকরা দীর্ঘদিন ধরে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদের যে অভিযোগ তোলার চেষ্টা করেছিলেন, তা গত দুই বছরে দেশের আপামর জনতার কাছে অসার প্রমাণিত হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—হিটলার, মুসোলিনি, আইয়ুব খান বা জিয়াউর রহমান বন্দুকের নল দিয়ে রাষ্ট্র চালিয়েছেন, কিন্তু শেখ হাসিনা দীর্ঘ ১৬ বছর কোনো প্রকার সেনাশাসন ছাড়াই বিপুল জনসমর্থন নিয়ে দেশ পরিচালনা করেছেন।
বিপরীতে, বর্তমান সরকারের ওপর জনগণের আস্থা না থাকায় আজও শহর থেকে গ্রামে সেনাবাহিনীর ট্যাংক ও বন্দুকের পাহারা নিশ্চিত করতে হচ্ছে। জনগণের প্রকৃত শক্তি থাকলে এভাবে দেশ চালাতে হতো না বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অসাংবিধানিক ও হাস্যকর হিসেবে দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৭ ও ১২৮ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৯৬-১০৬ ধারা অনুযায়ী, অন-ডিউটি ম্যাজিস্ট্রেট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আত্মরক্ষা এবং জানমাল রক্ষার্থে গুলি চালাতে পারেন, যার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না।
শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে মাত্র পাঁচ মাসে দেওয়া এই ফরমায়েশি রায়ের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW)’ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং জানিয়েছে যে এই বিচারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। আদালতে শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত (State-appointed) আইনজীবী আমির হোসেন ও আমিনুল গণি টিটু সরাসরি বিএনপি-জামায়াত রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং বিশ্ব বিবেকের কাছে এই বিচারকে একটি প্রহসনে পরিণত করেছে।
ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম এনডিটিভি কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, “আওয়ামী লীগ কারও কাছে দয়া ভিক্ষা করে না, তবে আমরা রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে। আমার বিরুদ্ধে যে রায় দেওয়া হয়েছে তা কোনো বিচার নয়, এটি একটি অবৈধ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রক্রিয়ার অংশ।”
বিগত দুই বছরে দেশের মানুষ মব ভায়োলেন্স, লুটপাট ও বিচারালয়ে জোরপূর্বক পদত্যাগের মতো কলঙ্কজনক অধ্যায় দেখেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে মব দিয়ে জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো এবং সম্প্রতি জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে অন্যায্যভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর ঘটনা বিচারব্যবস্থার মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে।
অথচ, শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে চট্টগ্রামের বকশিরহাটে ড. ইউনূসের বাড়ি কিংবা তারেক রহমানের ড্যান্ডি ডাইং ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী কখনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক আগুন বা লুটপাট চালায়নি।
অতীতে ১৯৮১ বা ২০০৭ সালে যেভাবে মৃত্যুভয় ও কারাগারের হুমকি উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা দেশে ফিরেছিলেন, ঠিক তেমনি ২০২৬ সালের এই কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি চলতি বছরেই দেশে ফেরার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতৃত্ব এখন দেশের সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে আরেকটি গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য ছক সাজাচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের প্রতিটি ইটের হিসাব নিতে এবং বাংলাদেশকে মার্কিন ডিপ-স্টেট ও পাকিস্তানের আইএসআই-এর নীলনকশা থেকে মুক্ত করে পুনরায় প্রগতির ধারায় ফিরিয়ে আনতে আওয়ামী লীগ তৃণমূল পর্যায়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে। “সুড়ঙ্গের শেষ আলো” হয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যার এই প্রত্যাবর্তন বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষা এবং মব ভায়োলেন্সের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়ার এক চূড়ান্ত লড়াই হিসেবে রূপ নিতে যাচ্ছে।
