কলাম লেখক: সৈয়দা রাজিয়া মোস্তফা বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিশিষ্ট সমাজ সেবিকা।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বহুল আলোচিত তিস্তা ব্যারেজ নিয়ে কোন চুক্তি হয়নি। এমনকি অন্য কোন ক্ষেত্রেও কোন একটি প্রকল্প চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়নি। তাঁর এই সফরের ফলে ১টি ইউয়ানও বাংলাদেশে আসবে না। বেসরকারি খাতেও কোন বিনিয়োগ চুক্তি হয়নি। বাংলাদেশের সঙ্গে হয়েছে ১৬টি সমঝোতা স্মারক সই। আর একটি সমঝোতা হয়েছে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি এবং বিএনপি’র মধ্যে। সমঝোতা স্মারকে কোন অঙ্গীকার বা দায়বদ্ধতা থাকে না। ওগুলো লোক দেখানো সৌজন্য মাত্র।
চীনের সঙ্গে এত খারাপ সম্পর্ক কখনোই বাংলাদেশের ছিলনা। ২০১৬ সালে চীনা রাষ্ট্রপতির ঢাকা সফরকালে এক দিনে স্বাক্ষর হয়েছিল ২০ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রকল্প সহায়তা চুক্তি। চীনা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঢাকায় এসেছিল সেদেশের অনেক ব্যাবসায়ী। তারাও বাণিজ্যিক এবং বিনিয়োগ চুক্তি যার মূল্য ছিল ১২/১৩ বিলিয়ন ডলার। বহু বছর ধরে চীন সব সময় কোন না কোন প্রকল্পে সহায়তা এবং বিনিয়োগ করেছে। একন খরা কখনোই দেখা যায়নি।
চীনা বিনিয়োগের এবং প্রকল্প সহায়তার এই খরার কারণ আমেরিকার সঙ্গে করা উপনিবেশ চুক্তি। উপনিবেশ চুক্তির আর্টিকেল ৪.৩ এর ৪ নম্বর ধারায় চীনের নাম উল্লেখ না করে বলা হয়েছে, যদি বাংলাদেশ কোন অ-বাজার অর্থনীতির (যেমন চীন) সঙ্গে কোন দ্বি-পাক্ষিক করমুক্ত বাণিজ্যিক চুক্তি কিংবা অগ্রাধিকারযুক্ত অর্থনৈতিক চুক্তি করে যা আমেরিকার স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্থ করে তবে উপনিবেশ চুক্তি বাতিল হবে আমেরিকা বাংলাদেশের উপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে। আমেরিকার সঙ্গে এমন চুক্তি বলবৎ থাকার সময় চীন কি আর কোন অগ্রাধিকারযুক্ত (কম সুদ, বিনামূল্যে প্রাতিষ্ঠানিক এবং প্রযুক্তি সহায়তা, ইত্যাদি) অর্থনৈতিক চুক্তি করতে পারবে? বাংলাদেশও পারবে না।
জামায়াত-বিএনপির প্রকাশ্য সম্মতিতে ড. ইউনুসের সরকারের করা উপনিবেশ চুক্তি যতকাল বলবৎ থাকবে ততকাল চীন, রাশিয়া এবং আমেরিকা পছন্দ করে না এমন কোন দেশের সঙ্গে কোন বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক, সামরিক এবং কূটনৈতিক চুক্তি করা যাবে না। বাংলাদেশকে আমেরিকার উপনিবেশ হয়েই থাকতে হবে।
