লেখকঃ আনিস আলমগীর
বিশ্ব বাটপার ইউনূস আঠারো মাস দেশ শাসন করে চলে গেছে, তার আঠারো মাসের শাসনের কুফল বহন করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। তারপরও ইউনূস সরকার থেকে কিছু কিছু সুবিধাভোগী চাটুকার থামছে না তার গুণগান গাইতে। শুধু তাই নয়, এই গুপ্তরা ইউনূসের যারা সমালোচনা করে সেই সব মিডিয়া এবং ব্যক্তির পেছনে লেগেছে- যাতে ইউনূসের শাসনের অপছায়া তারেক রহমানের সরকারের উপর অব্যাহত থাকে।
ড. ইউনূসের প্রশংসা করে এরা প্রচার করছেন যে, তিনি নাকি এক চরম ক্রাইসিসের সময় এসে ভেঙে পড়া রাষ্ট্রযন্ত্র পুনর্গঠন করেছেন, অর্থনীতি এক ধাক্কায় চাঙ্গা করে দিয়েছেন, আর প্রতিবেশীদের সাথে ‘চোখে চোখ রেখে’ কথা বলে দেশের মর্যাদা আকাশচুম্বী করেছেন!
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে তাকে চরম ক্রাইসিস মুহূর্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সত্য কিন্তু তিনি জাতির জন্য নতুন করে ক্রাইসিস তৈরি করে গেছেন। তার অন্ধ স্তুতি গাইতে গিয়ে আসল সত্যটা চেপে যাওয়া হচ্ছে।
চলুন একটু মিলিয়ে দেখি:
১. ভারতের সাথে সম্পর্ক ও কূটনৈতিক ব্যর্থতা:
তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা যেটাকে ‘চোখে চোখ রেখে’ কথা বলা বলছেন, বাস্তবে সেটা ছিল চরম কূটনৈতিক দেউলিয়াত্ব। এই শীতল সম্পর্কের খেসারত দিতে হয়েছে আমাদের। ভারতের নিরাপত্তা অজুহাত আর দুই দেশের রাজনৈতিক দূরত্বের কারণে আমরা টি২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলতে যেতে পারলাম না। এটা কি চোখে চোখ রাখা, নাকি আমাদের ক্রীড়াঙ্গন আর মর্যাদাকে কোণঠাসা করা? ক্রিকেটার এবং দেশবাসীর স্বপ্ন চুরমার করে পরবর্তীতে এরা আবার নিজেদের দায় একে অন্যের উপর দিচ্ছে।
শুধু তা-ই নয়, ভারত আমাদের যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সুবিধাগুলো বাতিল বা কড়া করেছিল- বিদ্যুৎ আমদানি, লাইন অব ক্রেডিট কিংবা নিত্যপণ্যের সুবিধা- এখন আবার সেগুলো ফিরে পাওয়ার জন্যই এই সরকারকেই ব্যাকুল হয়ে হাত পাততে হচ্ছে!
শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে গোলামী চুক্তি করে গিয়েছে বলেছে, কিন্তু একটাও বাতিল করল না কিংবা পর্যালোচনা করে সমতায় আনার চেষ্টা করেনি।
১. প্রতিহিংসার রাজনীতি ও আইনি প্রহসন (বিনা বিচারে আটক ও ভুয়া মামলা):
বলা হচ্ছে তিনি নাকি ‘প্রতিশোধের রাজনীতির ঊর্ধ্বে’ উঠেছিলেন। অথচ বাস্তবে তার আমলে আইনের শাসনের নাম দিয়ে যা চলেছে, তা ছিল চরম আইনি হেনস্তা ও ভুয়া মামলার মহোৎসব। ৫ আগস্টের পর থেকে সারা দেশে গণহারে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, সমর্থকদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার ভুয়া মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমন সব মামলা হয়েছে যেখানে একই এজাহারে কয়েক শ মানুষকে আসামি করা হয়েছে, যাদের অনেকের ঘটনাস্থলে থাকার দূরতম প্রমাণও ছিল না।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ বা সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়াই শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হাজার হাজার মানুষকে দিনের পর দিন বিনা বিচারে ও জামিনহীনভাবে জেলে আটকে রাখা হয়েছে। এটি ছিল প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির এক নতুন ও নিষ্ঠুর সংস্করণ।
১. মব জাস্টিস ও মৌলবাদের লালন:
সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী ক্ষতিটা হয়েছে দেশের ভেতরে। তার সময়ে ‘মব জাস্টিস’ বা মব সন্ত্রাস প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল। ৩২ নম্বর ভাঙ্গা, মাজার ভাঙচুর, জোর করে শিক্ষকদের পদত্যাগ করানো- কোনোটাতেই সরকার শক্ত হাত দেখাতে পারেনি। উল্টো সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে, তাদের দাবির মুখে নতি স্বীকার করা হয়েছে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের বুকে মৌলবাদের এই বীজ বুনে দেওয়া দেশের জন্য কত বড় দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি, তা ভবিষ্যৎ বলবে।
আজ দৈনিক বণিক বার্তা পত্রিকায় প্রধান শিরোনাম করা হয়েছে নতুন করে মৌলবাদের উত্থান দিয়ে। বলা হয়েছে সাদা পতাকা কান্ডে দেশের ভাবমূর্তি, বিদেশি বিনিয়োগ এবং প্রবাসী শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
ব্যক্তি ইউনূসের আমেরিকার দালালি করে আন্তর্জাতিক ইমেজ থাকতে পারে, কিন্তু শাসক হিসেবে তার দূরদর্শিতার অভাব এবং ভুল নীতি দেশকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়ে গেছে। অন্ধ প্রশংসা বাদ দিয়ে এই রূঢ় সত্যগুলো মেনে নেওয়ার সাহস সবার থাকা উচিত।
