ফোরটিন ডেস্ক : পাপকে ঘৃণা করো, পাপীকে নয় এই মহৎ বাণীতে বিশ্বাস করে নিজের গর্ভধারিনী মায়ের খুনিকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন মার্কিন নারী মার্থা ম্যাককে। কেবল ক্ষমাই করেননি, খুনিকে জেল থেকে বের করতে সমর্থন দেওয়া থেকে শুরু করে নিজের ঐতিহাসিক বসতবাড়িতে পুনর্বাসনের সুযোগও করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই উদারতা ও অকৃত্রিম বিশ্বাসের চরম নৃশংস মূল্য দিতে হলো মার্থাকে। ২৪ বছরের ব্যবধানে একই পরিবারের মা ও মেয়েকে হত্যা করে ইতিহাসে এক ভয়ঙ্কর ও চাঞ্চল্যকর ট্রু-ক্রাইম অধ্যায়ের জন্ম দিল ট্রাভিস লুইস নামের এক ঘাতক।
যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের ঐতিহাসিক ‘স্নোডেন হাউস’কে ঘিরে আবর্তিত হওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বরে। সে সময় মার্থার ৭৫ বছর বয়সী মা স্যালি স্নোডেন ম্যাককে এবং তাঁর ৫২ বছর বয়সী ভাতিজা বিখ্যাত গিটারিস্ট জোসেফ ‘লি’ বেকারকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় ট্রাভিস লুইসের বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। বিচারে দোষ স্বীকার করায় আদালত তাকে ২৮ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন। তবে বিচারে সাজা হলেও লুইস নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করে আসছিল।
মাকে হারিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চুরমার হয়ে গিয়েছিলেন মার্থা ম্যাককে। তবে প্রতিশোধের আগুনে না জ্বলে তিনি ঘাতক লুইসের সাথে কারাগারে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু করেন। মার্থা বিশ্বাস করতেন—মানুষের ভুল শোধরানোর দ্বিতীয় সুযোগ পাওয়া উচিত। লুইসের অনুশোচনা ও নিজেকে নির্দোষ দাবি করার কথায় গলে গিয়ে মার্থা তার প্যারোলে মুক্তির জোরালো সমর্থন দেন। ২৩ বছর কারাভোগের পর ২০১৮ সালে মুক্তি পান লুইস।
কারাগার থেকে বের হওয়ার পর মার্থা একধাপ এগিয়ে নিজের পারিবারিক সম্পত্তি ও ঐতিহ্যবাহী বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট ভেন্যু ‘স্নোডেন হাউসে’ লুইসকে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ দেন। কিন্তু পরম মমতায় আশ্রয় দেওয়া সেই সম্পর্ক বিষাক্ত হয়ে ওঠে একটি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে। একটি ঝাড়বাতি বিক্রির ১০ হাজার ডলার হারিয়ে গেলে মার্থা লুইসকে সন্দেহ করেন এবং কাজ থেকে বরখাস্ত করেন।
পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ স্নোডেন হাউসে হঠাৎ অ্যালার্ম বেজে উঠলে সেখানে ছুটে যায় স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফের দল। তল্লাশির সময় ৬৩ বছর বয়সী মার্থা ম্যাককের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত ও ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দোতলার জানালা দিয়ে লাফিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ট্রাভিস লুইস। সে গাড়িতে উঠে পালানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে পাশের হর্সশু লেকের জলে ঝাঁপ দেয়। পরবর্তীতে ডুবুরি ও সোনার প্রযুক্তির মাধ্যমে নদী থেকে লুইসের মৃতদেহ উদ্ধার করে উদ্ধারকারী দল।
যাকে ক্ষমা করে মার্থা পুনর্বাসিত করেছিলেন, নিজের মায়ের সেই ঘাতকের হাতেই ২৩ বছর পর জীবন দিতে হলো তাঁকে। ক্ষমার এ এক মর্মান্তিক ও ভয়াবহ পরিণতি, যা পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আজও আলোচনার জন্ম দেয়।
