নিজস্ব প্রতিনিধি : পবিত্র উপাসনালয় মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে রাজনৈতিক সভা পরিচালনা ও নির্বাচনী প্রার্থী ঘোষণা করার এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে রংপুরের মিঠাপুকুরে।
উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের চকপাড়া জামে মসজিদের ভেতরে জামায়াতে ইসলামীর এমন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় সাধারণ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার ঝড়।
জানা গেছে, গত ২৩ জুন মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের পর চকপাড়া জামে মসজিদের ভেতরে চেয়ার ও টেবিল বসিয়ে এক দলীয় সভার আয়োজন করেন জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীরা। ওই সভা থেকে আগামী ইমাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য মনোহর বাদশা নামে এক ব্যক্তিকে দলের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন মিঠাপুকুর উপজেলা জামায়াতের আমির আসাদুজ্জামান শিমুল। আজ ২৫ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা আমির নিজেই।
এই রাজনৈতিক সভায় জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম, নায়েবে আমির আব্দুল বাছেত হারুন, সহকারী সেক্রেটারি গোলাম আজমসহ উপজেলা ও ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিলে বসে জামায়াত নেতাদের এমন রাজনৈতিক আলোচনার ছবি ফেসবুকে আসতেই সাধারণ মানুষ ও আলেম সমাজ ক্ষোভ উগরে দেন।
এ বিষয়ে মাওলানা আজিজুর রহমান নামে একজন আলেম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মসজিদকে পার্টি অফিস বানিয়ে ফেলছে এই মোনাফেকগুলো। মুফতি হাবিবুল্লাহ জালালি নামে আরেক হাক্কানি ওলামা বলেন, ‘মসজিদ আল্লাহর ঘর, এখানে কীসের ভন্ডামি? এরা ইসলামের নামে ভন্ডামি শুরু করে দিয়েছে।’
চকপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসার মুহতামিম আলহাজ ইয়াসির আরাফাত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জামায়াতে ইসলামী মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে দলীয় প্রোগ্রাম করে মসজিদের আদব মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করেছে। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। আমরা এলাকাবাসী এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
এই বিষয়ে হুলাশুগঞ্জ জামিয়া কুরআনিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি মাসুদুর রহমান কাসেমী ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রোগ্রামে সাধারণত অন্য দলের সমালোচনা বা গিবত করা হয়ে থাকে; যা মসজিদের ভেতরে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ছাড়া, এভাবে চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসে দলীয় প্রোগ্রাম করার মাধ্যমে যদি মসজিদের সৌন্দর্যহানি হয়ে থাকে, তবে তা নিশ্চিতভাবেই মসজিদের আদবের চরম লঙ্ঘন।”
পবিত্র উপাসনালয়কে এভাবে রাজনৈতিক স্বার্থে ও নির্বাচনী উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ঘটনাটি নিয়ে মিঠাপুকুর জুড়ে এখনো থমথমে পরিস্থিতি ও পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক চলছে।
