নিজস্ব প্রতিনিধি : যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন দমনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর উদ্যোগের পক্ষে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে দেশটির একটি ফেডারেল আপিল আদালত। এর ফলে দেশজুড়ে অত্যন্ত দ্রুত প্রক্রিয়ায় কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের বহিষ্কারের নীতি কার্যকর করার পথে সবচেয়ে বড় আইনি বাধা দূর হলো।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিট আপিল আদালতের তিন বিচারকের বেঞ্চ ২-১ ভোটে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে এই রায় প্রদান করে। আদালতের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) ‘এক্সপেডাইটেড রিমুভাল’ বা দ্রুত বহিষ্কার নীতির সম্প্রসারিত সংস্করণ দেশজুড়ে বাস্তবায়ন করতে পারবে।
নতুন এই আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট জটিল ক্ষেত্রগুলোতে কোনো রকম আদালতে পূর্ণাঙ্গ শুনানি বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সরাসরি দেশ থেকে বহিষ্কার করার একচ্ছত্র ক্ষমতা পাবেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত এই বিশেষ ব্যবস্থাটি মূলত মেক্সিকো সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সীমাবদ্ধ ছিল। সাধারণত যেসব ব্যক্তি সম্প্রতি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন এবং দেশে অন্তত দুই সপ্তাহ অবস্থানের প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হতেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করা হতো।
তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে প্রণীত নতুন নীতির মাধ্যমে এর পরিধি দেশব্যাপী উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো স্থানে থাকা এমন অভিবাসীর বিরুদ্ধে দ্রুত বহিষ্কার প্রক্রিয়া ব্যবহার করা যাবে, যিনি দেশে টানা দুই বছরের বেশি সময় ধরে অবস্থানের বৈধ প্রমাণ দিতে পারবেন না।
এই বিতর্কিত নীতিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন আদালতে আইনি লড়াই চলছিল। ২০২৫ সালের আগস্টে অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠন ‘মেক দ্য রোড নিউইয়র্ক’-এর করা এক মামলায় এক ফেডারেল বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপকে পুরোপুরি অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করে এর ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন।
কিন্তু আপিল আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকরা পূর্বের সেই নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হননি। ট্রাম্প মনোনীত বিচারক জাস্টিন ওয়াকার ও নিওমি রাও রায়ে বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা রয়েছে এবং আবেদনকারীরা প্রমাণ করতে পারেননি যে এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তবে বেঞ্চের তৃতীয় সদস্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মনোনীত বিচারক রবার্ট উইলকিনস এই রায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ভিন্নমত পোষণ করেন। তাঁর মতে, এই কঠিন নীতিটি বাস্তবে সাধারণ ও নিরপরাধ অভিবাসীদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং মানবাধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করতে পারে।
আদালতের এই রায় প্রকাশের পর ট্রাম্প প্রশাসন সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছে। ডিএইচএসের প্রধান আইনজীবী জেমস পারসিভাল বলেন, আদালতের আদেশ প্রমাণ করেছে যে সরকার আইনের বিধান অনুসারেই পদক্ষেপ নিয়েছে এবং একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার কর্মসূচির কথাও মনে করিয়ে দেন।
অন্যদিকে, মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবীরা আদালতের রায়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আনন্দ বালাকৃষ্ণন বলেন, এই সিদ্ধান্ত এমন একটি ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে যেখানে ভুল সিদ্ধান্তের কারণে হাজারো মানুষ ন্যায্য সুযোগ পাওয়ার আগেই বহিষ্কারের মুখোমুখি হবেন।
