নিজস্ব প্রতিনিধি :দীর্ঘ আইনি জটিলতা এবং রাজপথের তীব্র রাজনৈতিক বৈরিতার দেয়াল ভেঙে সদ্য কারামুক্তি লাভ করেই মাঠের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় বিস্ফোরণ ঘটালেন নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র ও দাপুটে আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও অনমনীয় অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি প্রকাশ্য এক মেগা রাজনৈতিক হুঙ্কার দিয়েছেন।
নিজের ভবিষ্যৎ নির্বাচনী পরিকল্পনা নিয়ে ঘোষণা দিতে গিয়ে সেলিনা হায়াৎ আইভী অত্যন্ত স্পষ্ট ও কড়া ভাষায় বলেছেন, “শুধু নির্বাচন করব তা নয়, শতভাগ গ্যারান্টি দিয়ে বিজয় আনবো।” রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই প্রথম কোনো শীর্ষ সারির আওয়ামী লীগ নেত্রী জেল থেকে বের হয়েই সরাসরি নির্বাচনী মাঠে বুক চিতিয়ে ‘শতভাগ গ্যারান্টি’ দিয়ে জয়ের এমন প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন, যা নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র তোলপাড়ের জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেলিনা হায়াৎ আইভীর এই ‘১০০% উইনিং গ্যারান্টি’ মূলত ভঙ্গুর অবস্থায় থাকা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে নতুন করে অক্সিজেন সরবরাহ করার একটি সুপরিকল্পিত মনস্তাত্ত্বিক চাল। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নারী মেয়র হিসেবে টানা তিনবার দায়িত্ব পালন করা আইভীর মাঠপর্যায়ে যে বিশাল ও দলমতনির্বিশেষে ব্যক্তিগত ‘ভোট ব্যাংক’ এবং জনপ্রিয়তা রয়েছে, তিনি মূলত সেই জনসমর্থনকেই আগামী দিনের লড়াইয়ের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চান।
শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে যখন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি ও অন্যান্য দলগুলো নিজেদের আসন মজবুত করতে মরিয়া, ঠিক তখনই আইভীর এই গর্জন স্পষ্ট সংকেত দিচ্ছে যে, মাঠের লড়াইয়ে তিনি কাউকে এক চুলও ছাড় দিতে রাজি নন। তাঁর এই আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা বর্তমান নির্বাচন কমিশন এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতার ওপরেও এক ধরনের প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করল বলে মনে করছেন অনেকে।
অন্য দিকে, সদ্য কারামুক্ত আইভীর এই মেগা বিস্ফোরক বক্তব্যের খবর সোশাল মিডিয়া ও নারায়ণগঞ্জের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা জবাবের ঝড় উঠেছে। বিরোধী শিবিরের স্থানীয় নেতারা ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলছেন, নারায়ণগঞ্জের মানুষ স্বৈরাচারী ও দলীয়করণের রাজনীতিকে চিরতরে বর্জন করেছে; ফলে শতভাগ গ্যারান্টি দিয়ে ভোট ডাকাতি বা পকেট জয়ের দিন এখন আর নেই।
তবে আইভীর এই অনমনীয় হুঙ্কার নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীদের মাঝে যে রাতারাতি এক নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে, তা বলাই বাহুল্য। কারামুক্তির পর আগামী দিনে তাঁর গোপন রাজনৈতিক কৌশল, দলীয় কোন্দল নিরসনের উদ্যোগ এবং এই মেগা নির্বাচনী চ্যালেঞ্জের পর নারায়ণগঞ্জের রাজপথে গড়ে ওঠা নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ এখন সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
