হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৯ জুলাই, ২০২৬) রাত ৮টার দিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে এই অভিযোগ জমা দেন। বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগ প্রদানকারী এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলে নাহিদ ইসলাম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, ডা. মাহমুদা মিতু এবং সারোয়ার আলম।
এর আগে আজ বিকেল ৩টার দিকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় জারি করা ১৪৪ ধারার তোয়াক্কা না করেই মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে বিশাল গাড়িবহর নিয়ে হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হন নাহিদ ইসলাম ও তাঁর সঙ্গীরা। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বহরটি শায়েস্তাগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের ‘চা-কন্যা’ ভাস্কর্য এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে তাদের পথরোধ করে।
এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারোয়ার আলমসহ এনসিপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের দীর্ঘ সময় বাগ্বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ব্যারিকেড ঠেলে গাড়িবহর নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যান।
তবে কিছুদূর যাওয়ার পর বাহুবল উপজেলার রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা আবারও বহরটির গতিপথ আটকে দেয়। এ সময় নাহিদ ইসলামসহ শীর্ষ নেতারা গাড়ি থেকে নেমে সড়কের ওপর বসে পড়েন এবং নানা স্লোগান দিতে থাকেন। এতে শ্রীমঙ্গল-হবিগঞ্জ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে পুলিশ লিখিত অভিযোগ গ্রহণের আশ্বাস দিলে এনসিপি নেতারা কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে অভিযোগ জমা দেন।
উল্লেখ্য, গতকাল হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় বহরে বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কথিত হামলার জের ধরেই আজকের এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
