নিজস্ব প্রতিনিধি : দীর্ঘদিনের আত্মগোপন ও সাংগঠনিক স্থবিরতা ভেঙে মাঠপর্যায়ের শক্তি পুনরুদ্ধারে এক নজিরবিহীন ও চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী নেতাদের অবিলম্বে বাংলাদেশে ফিরে আসার সুনির্দিষ্ট ও কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের এক অত্যন্ত গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ ভার্চুয়াল বৈঠকে দলীয় সভানেত্রী সরাসরি এই মেগা সাংগঠনিক গাইডলাইন প্রদান করেন বলে জানা গেছে। চব্বিশ পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক ও আইনি বাস্তবতার মাঝে দলীয় প্রধানের এমন অল-আউট অ্যাকশন ও সরাসরি স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের বার্তা তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ার পর নেতাকর্মীদের মাঝে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলোর মতে, দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা স্বদেশে সশরীরে পা রাখার পূর্বেই বিদেশে বসে ভার্চুয়ালি তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত যে ‘মেগা শুদ্ধি অভিযান’ ও দল গুছিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করেছেন, এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ মূলত তারই একটি অন্যতম প্রধান অংশ।
চব্বিশের পটপরিবর্তনের পর দলের যে সিংহভাগ প্রভাবশালী নেতাকর্মী ও সাবেক জনপ্রতিনিধিরা পার্শ্ববর্তী দেশসহ মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গিয়েছিলেন, তাদের এবার সরাসরি নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা ও সাংগঠনিক জেলাগুলোতে ফিরে মাঠপর্যায়ের হাল ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পর্দার আড়ালে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছ থেকে আসা ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ’ নিশ্চিত করার প্রচ্ছন্ন কূটনৈতিক চাপ এবং দেশে একের পর এক শীর্ষ নেতাদের আইনি জামিন পাওয়ার ঘটনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগ এবার পূর্ণ শক্তিতে রাজপথের মূল রাজনীতিতে ফিরতে ব্যাকুল।
বিশেষ করে সদ্য কারামুক্ত প্রভাবশালী নেত্রীদের ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাসভবনে গিয়ে দেওয়া মেগা হুংকার দলটির হতাশ নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে যে জ্বালানি সঞ্চার করেছে, তাকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতেই মূলত এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
দলীয় প্রধানের এই আকস্মিক ও কঠোর নির্দেশনার পর মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মাঝে গোপনে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়ার এক ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক পণ্ডিতদের মতে, আওয়ামী লীগের এই অল-আউট পুনর্গঠন মিশন ও একযোগে নেতাকর্মীদের স্বদেশে ফেরার এই ছক দেশের চলমান রাজনৈতিক হাওয়াকে যেকোনো সময় বড় ধরণের ওলটপালট করে দিতে পারে।
এতদিন যারা আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক মাঠ থেকে পুরোপুরি মাইনাস বা নিষ্ক্রিয় করার প্রশাসনিক কৌশল নিয়ে এগোচ্ছিলেন, তাদের এখন দলটির এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা ও মাঠ দখলের মরিয়া চেষ্টাকে রুখতে গিয়ে সম্পূর্ণ নতুন করে মাঠপর্যায়ের রণকৌশল সাজাতে হচ্ছে।
দলটির নেতাকর্মীদের দেশে ফেরার গোপন রুট, রাজপথে তাদের আগামী দিনের সম্ভাব্য রাজনৈতিক মহড়া এবং প্রশাসনের পরবর্তী কড়া নজরদারি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিভিন্ন বিশেষ রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক অনুসন্ধান উইং।
