নিজস্ব প্রতিবেদক: “আজ শেখ হাসিনার অভাব এই দেশ প্রতি মুহূর্তে ও প্রতি পদে পদে টের পাচ্ছে। আমি নিজে একজন নারী হয়ে বলছি, শেখ হাসিনার সময়েই আমি এই দেশে নিজেকে সবচেয়ে বেশি স্বাধীন ও নিরাপদ মনে করতাম। এই দুর্ভাগা জাতির জন্য শেখ হাসিনার বিকল্প আসলে শেখ হাসিনা নিজেই।”
চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে সরাসরি অংশ নেওয়া ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী নিয়াভ সারাইয়ের এই একটিমাত্র ফেসবুক উক্তি এখন বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতির সবচেয়ে বড় ‘হট টপিক’।
পটপরিবর্তনের দীর্ঘ ২১ মাস পর, ২০২৬ সালের এই অস্থিতিশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে দেশের নারী নিরাপত্তা যখন চরম হুমকির মুখে, তখন আন্দোলনের সম্মুখসারিতে থাকা একজন তরুণীর এমন চরম সাহসী ও বাস্তবসম্মত স্বীকারোক্তি দেশজুড়ে এক নজিরবিহীন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সচেতন নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ নারীদের মতে, নিয়াভ সারাই নিজের ফেসবুক পোস্টে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকে নয়, বরং বর্তমান বাংলাদেশের মব জাস্টিস ও মব ভায়োলেন্সের শিকার হওয়া একজন সাধারণ নারীর চরম নিরাপত্তাহীনতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই এই সত্যটি পুরো জাতির সামনে তুলে ধরেছেন।
এই ফলো-আপ প্রতিবেদনের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নিয়াভ সারাইয়ের এই পোস্টটি মূলত দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ও নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর এক বিশাল চড়ামারা চপেটাঘাত। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে তুলে ধরেছেন যে, বিগত ৫ই আগস্টের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে চরম অবনতি ঘটেছে, তার সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন দেশের মা-বোনেরা। রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র কোথাও আজ নারীদের ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই।
শিক্ষার্থী ও সমন্বয়ক পরিচয়ে দেশজুড়ে যে লাগামহীন মব সন্ত্রাস ও মব কালচার তৈরি হয়েছে, তা নারীদের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার স্বাধীনতাকে কেড়ে নিয়েছে। এই অবরুদ্ধ দমবন্ধকর পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ব্র্যাকের এই আইনের শিক্ষার্থী অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসন আমলে দেশের নারীরা যে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা, সামাজিক মর্যাদা এবং নির্ভয়ে চলাফেরার স্বাধীনতা উপভোগ করতেন, তা আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট।
রাজনৈতিক মতাদর্শের উর্ধ্বে গিয়ে দেশের সাধারণ নারী সমাজও এখন স্বীকার করছেন যে, শেখ হাসিনা যেভাবে কঠোর হস্তে উগ্র জঙ্গিবাদ ও নারী বিদ্বেষী শক্তিকে দমন করে নারীদের ঘরের বাইরে এসে মেধা বিকাশের সুযোগ করে দিয়েছিলেন, তা বর্তমান বাংলাদেশে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।
নিয়াভ সারাইয়ের এই সাহসী পোস্টের পর সোশাল মিডিয়ায় লাখ লাখ কর্মজীবী নারী ও তরুণী এই বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে শেয়ার করছেন এবং নেটিজেনদের একাংশ স্পষ্ট বলছেন যে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং বিশেষ করে নারী স্বাধীনতার সুরক্ষায় শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প আসলেই তৈরি হয়নি।
