নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের তথাকথিত অভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে বৈশ্বিক ও দেশীয় পরিসংখ্যানে বড় ধরনের অসঙ্গতির দাবি তুলে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং’ প্রতিবেদনটি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক আইনজীবী স্টিভেন পাউলস কেসি আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদনটি সংশোধন ও প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
গত ২৮ মে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে লন্ডনের বিখ্যাত ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্সের এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অভিযোগ করেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখিত ১,৪০০ জন নিহতের সংখ্যাটি বাস্তব তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, বরং অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর।
স্টিভেন পাউলস তাঁর চিঠিতে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক পরিসংখ্যানের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা ১,৪০০ বলা হলেও তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রকাশিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের গেজেট ২০২৪’ অনুযায়ী এই সংখ্যা ৮৩৪ জন। অন্যদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নিজস্ব প্রাথমিক তালিকায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৬৫০ জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এই অফিশিয়াল ডেটার তুলনায় জাতিসংঘের সংখ্যাটি অনেক বেশি এবং তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়।
আন্তর্জাতিক এই আইনজীবীর মতে, নিহতের সংখ্যার এমন বড় ব্যবধানকে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ এনে ক্ষমতার পতনকে বৈধতা দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
চিঠিতে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তোলা হয়েছে। স্টিভেন পাউলস দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রত্যক্ষ আমন্ত্রণে এই ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন পরিচালিত হওয়ায় এর ওপর রাজনৈতিক প্রভাব ছিল। তা ছাড়া তদন্তের সময়সীমা ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখায়, ১৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে দেশে ঘটে যাওয়া অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সহিংসতার ঘটনাগুলো এই রিপোর্টে সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
চিঠির শেষ অংশে জাতিসংঘের কাছে ১,৪০০ জন নিহতের বিতর্কিত তথ্যটি অবিলম্বে জনসমক্ষে সংশোধন বা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয় এবং ভবিষ্যতে জাতিসংঘের যেকোনো তদন্ত প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে এই চিঠির অনুলিপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর দেশে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর ফেসবুকে চিঠির ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক এখনও শেষ হয়নি। জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার রিপোর্ট এবং সরকারি গেজেটের ভেতরের এই বিশাল ব্যবধান ও এই আইনি চ্যালেঞ্জের ফলে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ সংখ্যা বিতর্ক’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বড় রূপ নিচ্ছে।
