নিজস্ব প্রতিনিধি : শান্তিতে নোবেলজয়ী ও সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সুদীর্ঘ কর্মজীবন এবং ১৮ মাসের শাসনকালজুড়ে আর্থিক অনিয়ম, কর ফাঁকি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রাতিষ্ঠানিক জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল বিত্তবৈভব গড়ে তোলার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ‘দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানো’র স্লোগান দিয়ে গ্রামীণ ব্যাংক ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে তিনি মূলত নিজের সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১৯৮৩ সালে মাত্র ৩ কোটি টাকা মূলধন নিয়ে সরকারি অধ্যাদেশের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়, যার বড় অংশই ছিল রাষ্ট্রের। ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত কোনো পুঁজি না থাকলেও তিনি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদের একক ক্ষমতা বলে ব্যাংকের অর্থ ও আন্তর্জাতিক অনুদান সরিয়ে ‘গ্রামীণ কল্যাণ’ ও ‘গ্রামীণ ফান্ড’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এই দুই প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরবর্তী সময়ে আইন বহির্ভূতভাবে গ্রামীণ টেলিকম, গ্রামীণফোনসহ ২৮টি ব্যক্তিমালিকানাধীন লাভজনক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন।
সবচেয়ে বড় জালিয়াতির চিত্র দেখা যায় গ্রামীণ টেলিকমে, যা দেশের বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের ৩৪.২% শেয়ারের মালিক। আইন অনুযায়ী গ্রামীণ টেলিকমের যাবতীয় লভ্যাংশের ওপর ৩৫% থেকে ৩৭.৫% করপোরেট কর দেওয়ার বিধান থাকলেও, ড. ইউনূস গ্রামীণ কল্যাণকে শেয়ারহোল্ডার সাজিয়ে মাত্র ১০% থেকে ২০% অগ্রিম আয়কর দিয়ে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকি দিয়েছেন। এ নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) করা মামলায় হাইকোর্ট তাকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিলেও, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি সব মামলা ও তদন্ত কার্যাক্রম বাতিল করিয়ে নেন।
ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত ট্যাক্স ফাইল ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তাঁর সাউথইস্ট ব্যাংকের মূল অ্যাকাউন্টে ১১৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা রেমিট্যান্স আসে, যার সিংহভাগই এসেছিল ২০০৭ সালের ১/১১-এর সেনা-সমর্থিত সরকারের আমলে। ২০০৫-০৬ কর বছর থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভবে তিনি সরকারের কাছে প্রকৃত রেমিট্যান্স আয়ের তথ্য গোপন করে কোটি কোটি টাকা কর ফাঁকি ও অর্থ পাচার করেছেন। এমনকি ২০২০-২১ অর্থবছরে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় সব অর্থ তুলে ১৫% কর ফাঁকি দিয়ে ‘ইউনূস ট্রাস্ট’ গঠন করেন, যা সমাজসেবার নামে কেবল তাঁর ও তাঁর পরিবারের বিলাসী জীবনযাপনের ব্যয়ভার বহন করছে।
১৮ মাস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকাকালীন ড. ইউনূস দেশের উন্নয়ন ও জনস্বার্থকে উপক্ষো করে নিজের গ্রামীণসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নজিরবিহীন সব রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের মালিকানা ২৫% থেকে কমিয়ে মাত্র ১০% করা হয় এবং ব্যাংকটিকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ৫ বছরের জন্য সম্পূর্ণ করমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তড়িঘড়ি করে ‘গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি’র অনুমোদন, ‘সমাধান সার্ভিসেস’কে ডিজিটাল ওয়ালেটের লাইসেন্স এবং ‘গ্রামীণ অ্যামপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস’কে লাভজনক জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স প্রদান করা হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন দিনের মাথায় ড. ইউনূস ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে থাকা অর্থ পাচার এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের ৬ মাসের কারাদণ্ডের সাজা দ্রুত আদালত থেকে খালাস করিয়ে নেন, যা তাঁর প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ২৬ বছর আগে নোবেল পাওয়ার সময় দারিদ্র্য বিমোচনের যে স্বপ্ন তিনি দেখিয়েছিলেন, তা ব্যর্থ করে তাঁর নিজের আমলেই দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে; অথচ জালিয়াতি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার চরম অপপ্রয়োগে তিনি শিক্ষক থেকে আজ শতকোটি টাকার বৈশ্বিক বিলিয়নিয়ারে পরিণত হয়েছেন।
