মো. আসাদুল আলম, জাবি প্রতিনিধি: সাভারের পাকিজা এলাকায় আবারও ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
১৭ মে রাত আনুমানিক ১২ টা ৩০ মিনিটের দিকে পাকিজার একজন স্টাফ, যার বাসা ব্যাংকটাউন বটতলা এলাকায়, পাকিজা ৩ নম্বর গেট থেকে স্ট্যান্ডের দিকে যাওয়ার পথে সশস্ত্র ছিনতাইকারীর হামলার শিকার হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, স্ট্যান্ডের পাশের বাম দিকের একটি গলি থেকে হঠাৎ দুইজন অস্ত্রধারী ছিনতাইকারী বের হয়ে আসে এবং ভিকটিমকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার ব্যাগ, মোবাইল ফোন ও আইডি কার্ড ছিনিয়ে নেয়। বাধা দিতে গেলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। তবে আল্লাহর রহমতে তিনি দৌড়ে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পান।
আরেক ব্যাক্তি ঘটনাস্থলের খুব কাছাকাছি ছিলেন বলে জানান। তিনি বলেন, “কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানেই ঘটনাটি আমার সাথেও ঘটতে পারত—এই চিন্তাটাই এখনো আতঙ্ক তৈরি করছে।”
তিনি সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন। পরে সাভার থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন এবং পাকিজা এলাকায় দায়িত্বরত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহত ব্যক্তির সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
আহতকে নিকটস্থ ল্যাবজোন হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল এলাকায় গিয়ে ভিকটিমের আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়। পরে পাকিজার নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে পুলিশ কর্মকর্তাও ফোনে যোগাযোগ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাভারে দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই ও হামলার ঘটনা চললেও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠছে না।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাভার বাসিরা, প্রশ্ন রাখেন—
“সাভারে একের পর এক মাদকবিরোধী ও ছিনতাইবিরোধী অভিযান চললেও কেন একই এলাকায় বারবার এমন ঘটনা ঘটছে? সাধারণ মানুষ কি আদৌ নিরাপদ?”
তিনি আরও বলেন, পাকিজা স্ট্যান্ডের এক ডিম বিক্রেতা জানান, তিনি ইতোমধ্যে প্রায় ২০ বার একই ধরনের ঘটনার বিষয়ে স্টেটমেন্ট দিয়েছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের প্রশ্ন—আর কত স্টেটমেন্ট, আর কত প্রমাণ, আর কত ঘটনার পর প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ আসবে?
সাভারের সাধারণ নাগরিক হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা-১৯ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা চাই, সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
স্থানীয়রা আশা করছেন, এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
