নাসরীন সুলতানা, সহযোগী অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
মাদানী সাহেবের স্ত্রী গর্ভবর্তী এবং খুব শীঘ্রই সন্তান জন্ম দিবেন। এই সময়ে মাদানী সাহেব যাতে পাপ কাজ না করেন সেই জন্য কাল নিজের যৌন চাহিদা মেটানোর জন্য দ্বিতীয় বিবাহ করেছেন। কি নির্মম এবং নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত!
এরিস্টটলের মতে জড় পদার্থের সাথে জীবের পার্থক্য হলো জীব (উদ্ভিদ এবং প্রাণী ) বেড়ে উঠে এবং বংশ বৃদ্ধি করে (they grow and reproduce)। জীব জগতকে তিনি আবার তিনটি আলাদা ভাগে ভাগ করেন-(উদ্ভিদ, পশু এবং মানুষ)। পশু এবং মানুষ উভয়ের একটি কমন বৈশিষ্ট্য হলো তাদের চাহিদা এবং অনুভুতি (desire এবং feeling) আছে। এই চাহিদা (আকাঙ্খা) এবং অনুভুতি থাকার জন্য মানুষ এবং প্রাণীর irrational faculty দায়ী।
অন্যদিকে, মানুষ এবং প্রাণীর মধ্যে পার্থক্য হলো মানুষের rational faculty আছে যার মাধ্যমে মানুষ বিচার বিবেচনা (deliberation and judgement) করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অর্থাৎ, মানুষের চাহিদা বা আকাঙ্ক্ষা থাকলেও তারা তাদের reason বা বিচারবুদ্ধি দ্বারা সেই আকাঙ্খাকে অবদমন করতে পারে। মানুষের এই বিচারবুদ্ধি কাজে লাগানোর এই গুণকে সদগুণ বা virtue বলা হয়। এরিস্টটলের মতে, মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সদগুণ দুই রকম-বৌদ্ধিক সদগুণ যা শিক্ষার মাধ্যম অর্জন করা যায়, এবং নৈতিক সদগুণ যা নিয়মিত চর্চার মাধ্যম গড়ে উঠে।
মাদানী সাহেবের স্ত্রী গর্ভবর্তী এবং খুব শীঘ্রই সন্তান জন্ম দিবেন। এই সময়ে মাদানী সাহেব যাতে পাপ কাজ না করেন সেই জন্য কাল নিজের যৌন চাহিদা মেটানোর জন্য দ্বিতীয় বিবাহ করেছেন। কি নির্মম এবং নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত! নারী ইনাদের কাছে এক টুকরো মাংসপিণ্ড ছাড়া আর কিছু নয় যা শুধু ভোগ করা যায়। নিজের স্ত্রীর চরম দুঃসময়ে তাকে ভরসা এবং আশ্বাস দেওয়ার চেয়ে নিজের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়াটাই বেশি জরুরি।
আমাদের দেশের বেশিরভাগ আলেমগণ মানব জাতির শারীরিক বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে জানেন, কিন্তু মানুষকে আল্লাহ কেন অন্যান্য সকল সৃষ্টির চেয়ে সেরা করে তৈরি করেছেন সে বিষয়ে কখনো চিন্তা করেন না। তারা বিজ্ঞানকে রাতদিন অপমান করেন। কিন্তু বিজ্ঞানের সুফল ১০০% ভোগ করেন। তারা ধর্ম মানেন, তবে তার নৈতিক দিক বিশ্লেষণ করেন না। তারা মানুষ হ* ত্যাকে নিজেদের অধিকার মনে করেন, অথচ কোন জীবন নিজেরা কেন দিতে পারেন না সেটি চিন্তা করেন না।
শুরু করেছিলাম জীবের দুইটি বৈশিষ্ট্যের কথা দিয়ে। জীব নিজেরা বেড়ে উঠে এবং বংশবিস্তার করে। পৃথিবীর যত অপরাধ তার কেন্দ্র এই দুইটিতে। পৃথিবীতে যত অপরাধ হয় তার মূল চেইন আকারে খুঁজতে গেলে তার পেছনে food এবং sex খুঁজে পাওয়া যাবে। হুজুরেরা সব বোঝেন, কিন্তু নিজেদের rational facultyকে কীভাবে ব্যবহার করে অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষতিকর চাহিদা কীভাবে অবদমন করা যায় সেটি বোঝেন না। অথচ, তারা যদি তার বয়ানে মানুষকে মানুষ হয়ে উঠার শিক্ষা দিতেন তাতে দেশটা আরো ভালো থাকতো। সেই সাথে ইসলামের সুফল লোকে ভোগ করতে পারতো।
