শামীম আহমেদ
এই জিনিসটি আমি প্রায়ই ভাবি, এবং মাঝে মাঝে লিখি। লিখতেই থাকব। বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইসলামী মৌলবাদ এই দুটি ভাগে এত সুতীব্রভাবে বিভক্ত হয়ে গেছে আমার কাছে মনে হয় এত বিপুল জনগোষ্ঠীর পক্ষে আর এখন একটি দেশে শান্তিপূর্ণভাবে পাশাপাশি বসবাস করা অসম্ভব প্রায়। ২০২৪ এর জুলাই-অগাস্ট আমাদের দেশকে এতটা বিভক্ত করেছে প্রায় প্রতিটি পরিবারে সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে, আত্মীয়তা ভেঙে গেছে, বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে গেছে, প্রতিবেশীদের কথা বলা বন্ধ হয়ে গেছে।
এই দুইভাগে কে ঠিক কে বেঠিক সেই আলাপ অর্থহীন। আমার কাছে অবশ্যই আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি সঠিক। আবার একটা বিপুল জনগোষ্ঠীর কাছে ইসলামী মৌলবাদ সঠিক। ইসলামী মৌলবাদ বলে যে গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করছি তারা যে প্রকৃত মুসলমান এটা ভাববেন না। এদের অধিকাংশ ইসলাম ঠিক মতো মানে না, প্রাণী নির্যাতন করে, শিশু নির্যাতন করে, নামাজ পড়ে না, রোজা রাখে না, মদ খায়, ঘুষ খায়। এখানে ইসলাম একটি রাজনৈতিক আইডেন্টিটি এর বেশী কিছু না।
জাস্ট চিন্তা করে দেখেন ২০২৪ এর জুলাই-অগাস্টে যেসব সুশীল, উচ্চমধ্যবিত্ত, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, করপোরেট শুদ্ধ বাংলা ও ইংরেজিতে একটি একটি মানুষের মৃত্যুর প্রতিবাদ করেছে, তাদের একজনও, I repeat, একজনও হামে মৃত ৪০০ শিশুর জন্য ইউনুস ও বিএনপি সরকারকে দায়ী করে একটি পোস্টও দেয়নি। আন্দোলন তো দূরে থাক। কী ভীষণ পরিমাণ নগ্ন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ছিল ২০২৪ এর জুলাই সেটা এখান থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায়।
পৃথিবীর নানা দেশের রাজনৈতিক বিভক্তি থাকে, কিন্তু তারা সবাই নিজের দেশের প্রতি অনুরক্ত ও নিবেদিত থাকে। বাংলাদেশ একটা অদ্ভুত দেশ যেখানে আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপক্ষ শক্তির দাসত্ব পাকিস্তানের প্রতি, অথবা ভারতের বিপক্ষে। বাংলাদেশের সাথে এদের কোন সম্পর্কই নেই। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে এমন ঘটনা ঘটলে সেসব দেশ ভেঙে গেছে। পূর্ব তিমুর, চেকোস্লোভাকিয়া, সুদান ইত্যাদি।
আমি জানি না এই বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষকে আর কখনও কোনভাবে একতাবদ্ধ রাখা সম্ভব কিনা!
