ভিজিট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসে বিজ্ঞাপন কিংবা নাটক তৈরি করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসান জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
প্রতারণার শুরুতে হাসান জাহাঙ্গীর জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমী কোনভাবে বুঝিয়ে তার সাথে একটি নাটক করতে রাজি করান। তারপর সে শুরু করে মৌসুমীর নাম ভাঙানো। নিউ ইয়র্কের পরিচিত রেস্টুরেন্ট খলিল বিরিয়ানি থেকে পর্যাপ্ত টাকা নিলেও নামমাত্র কাজ বুঝিয়ে দেন। যেখানে কাজের মান এবং দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

আবার জ্যাকসন হাইটসে একজন স্বর্ন ব্যাবসায়ীর কাছে মৌসুমী থাকবে বলে বিজ্ঞাপন করার জন্য টাকা নেন কিন্তু মৌসুমী তাতে রাজি না হওয়ায় কোনভাবে কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। গোল্ডেন এজ হোমকেয়ারও একই অভিযোগ করে চ্যানেল ফোরটিনের কাছে। এছাড়া নিউ ইয়র্কে বসবাসরত শিল্পীদের সম্মানী নিয়েও তিনি করেন ছলচাতুরী।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তিনি নিজেকে মিডিয়া সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিজ্ঞাপন তৈরি, প্রচার ও মিডিয়া কাভারেজের আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাসে অনেকে অগ্রিম টাকা প্রদান করলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো কাজ সম্পন্ন করেননি। বরং পরবর্তীতে যোগাযোগ এড়িয়ে চলারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

একাধিক সূত্র জানায়, আকর্ষণীয় অফার ও প্যাকেজ প্রচারের মাধ্যমে তিনি গ্রাহকদের আগ্রহী করে তুলতেন। বিশেষ করে নতুন ব্যবসা শুরু করা প্রবাসীদের টার্গেট করে কম খরচে মানসম্মত বিজ্ঞাপন তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন। তবে টাকা নেওয়ার পর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাজের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
কিছু ভুক্তভোগী জানান, বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তারা সন্তোষজনক কোনো উত্তর পাননি। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, আংশিক কাজ দেখিয়ে বাকি অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা এমন প্রতারণার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছেন।
এবিষয়ে চিত্রনায়িকা মৌসুমীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি চ্যানেল ফোরটিনকে জানান, আমেরিকায় এসে আমাকে নাটকে অনুরোধ করলে আমি না করতে পারিনি। পরে সেটা দৈর্ঘ্য বেড়ে যাওয়ায় সেটা টেলিফিল্ম হবে শুনেছিলাম। কিন্তু সে এটা সিনেমা হিসেবে মুক্তি দিতে চায় শুনে আমিও অবাক হয়েছি। আমাকে বললে আমি কখনোই না করতাম না। বরং তাকে আরো সাহায্য করতাম।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাসান জাহাঙ্গীরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আমেরিকান বাংলাদেশি প্রোডিউসার এসোসিয়েশনের আহবায়ক জনাব অলিভ আহমেদ জানান, বিষয়টি আমার ইতোমধ্যে অবগত হয়েছি। মৌসুমী আপা যদি আমাদের সাথে যোগাযোগ করে তাহলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেবো।
বিশিষ্ট আইনজীবী এটর্নী মঈন চৌধুরী বলেন, ভিজিট ভিসায় এসে যেকোন আর্থিক লেনদেন করা অন্যায়। কোনভাবে ভিসা সেন্টার জানতে পারলে তার ভিসা বাতিল হবে এবং অন্যদের ভিসা পেতেও সমস্যা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে অবস্থানরত যে কোনো সেবা প্রদানকারীর ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করা জরুরি। লিখিত চুক্তি ও প্রমাণ সংরক্ষণ না করলে এ ধরনের প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।
