নিজস্ব প্রতিনিধি :
আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্সের বৈজ্ঞানিক গবেষণা-ভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘সায়েন্স’-এর এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাবের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা কেনার বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে দায়ী করা হয়েছে। ইউনিসেফের বিশেষ সতর্কতা উপেক্ষা করে টিকা কেনার পদ্ধতি পরিবর্তনের ফলে দেশে টিকাদান কর্মসূচি থমকে গেছে এবং প্রাণঘাতী হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
সায়েন্স জার্নালের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত মার্চের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত দেশে ৩২ হাজারের বেশি মানুষ হামে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ২৫০ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের অধিকাংশই শিশু। এই মহামারির কারণে দেশের হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে অসংখ্য শিশুকে শ্বাসকষ্টসহ গুরুতর অবস্থায় নিয়ে আসা হচ্ছে। বেড সংকটের কারণে অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দিতে বাধ্য হচ্ছেন চিকিৎসকরা, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে টিকা কেনার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়। মূলত অপুষ্টি এবং দুর্বল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার পাশাপাশি টিকার তীব্র সংকটের কারণে শিশু মৃত্যুর হার আরও বেড়েছে।
সাধারণত বাংলাদেশে ইউনিসেফের মাধ্যমে হাম-রুবেলার টিকা সরবরাহ করা হতো, যার অর্থায়ন আসত গ্যাভি ও সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার ইউনিসেফের বদলে ‘উন্মুক্ত দরপত্র’ পদ্ধতি চালু করে।
ইউনিসেফ এই পরিবর্তনের তীব্র বিরোধিতা করে সতর্ক করেছিল যে, এই পদ্ধতি টিকাদান ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে। ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স সায়েন্স জার্নালকে জানান, তিনি স্বয়ং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে এই সিদ্ধান্ত না নিতে অনুরোধ করেছিলেন।
পরবর্তীতে ওই নতুন দরপত্র প্রক্রিয়া আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে যাওয়ায় দেশের টিকার মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যায়। এর ফলে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে পড়ে এবং দেশজুড়ে হামের মহামারির সূত্রপাত ঘটে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
