নিজস্ব প্রতিনিধি :
সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে মব সন্ত্রাসের রেশ কাটতে না কাটতেই টঙ্গীর গণস্বাস্থ্য উপকেন্দ্রটিও একই পরিস্থিতির শিকার হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। সাভারে হামলাকারী মব সন্ত্রাহীদের একটি অংশ গাড়ি নিয়ে টঙ্গীতে এসে সেখানেও ত্রাস সৃষ্টি করে। যদিও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দ্রুত সরে যাওয়ায় কেন্দ্রটি দখল করতে পারেনি তারা, তবে পরিস্থিতির চাপে ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে এটি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, টঙ্গীর এই ৩০ শয্যার স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে অস্ত্রোপচার, আলট্রাসনোগ্রাম ও প্যাথলজিসহ আধুনিক সব সুবিধা থাকা সত্ত্বেও এখন সেখানে এক ভূতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। কেন্দ্রটির পরিচালক সরকার নাজনীন আহমেদ শায়লা জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. নাজিম উদ্দিনের নিয়ন্ত্রণ খর্ব করতেই একটি বিশেষ মহল এই অপচেষ্টা চালায়। এমনকি সাভারে মব হওয়ার পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের তৎকালীন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের ইন্ধন ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় টঙ্গীর অন্তত ১৭টি বস্তির নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। আগে প্রতিদিন ৫ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এখানে সেবা দিতেন এবং স্বল্পমূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হতো, যা এখন সম্পূর্ণ বন্ধ। বিশেষ করে প্রসবকালীন সেবায় স্থানীয় নারী ও নারী শ্রমিকদের প্রধান ভরসা ছিল এই উপকেন্দ্রটি।
হাসপাতালটি বন্ধ হওয়ায় এর ৩৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর জীবনও সংকটে পড়েছে। সাভার কেন্দ্র থেকে বেতন বন্ধ করে দেওয়ায় ইতিমধ্যে ২৩ জন কর্মী ভিন্ন পেশায় চলে গেছেন এবং বাকি ১২ জন ২০ মাস ধরে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা দ্রুত এই মানবিক চিকিৎসাকেন্দ্রটি পুনরায় খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
