নিজস্ব প্রতিনিধি :
রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ডে আবারও বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা। জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে আসা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি আর প্রকাশ্য খুনাখুনিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই দেশে ৮৫৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে কেবল ঢাকাতেই প্রাণ হারিয়েছেন ৬১ জন। দিনদুপুরে মাস্ক পরে পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার এই সংস্কৃতি নগরবাসীকে এক চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চব্বিশের জুলাইয়ের পর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান কিলার আব্বাস, পিচ্চি হেলাল, সানজিদুল ইসলাম ইমন এবং খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনের মতো কুখ্যাত সব অপরাধী। জেল থেকে বের হওয়ার পরপরই তারা পুরোনো রাজত্ব ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। গত মঙ্গলবার রাতে নিউমার্কেট এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটনকে, যা মূলত এই আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়েরই এক বীভৎস পরিণতি বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা নির্দিষ্ট কিছু গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। মিরপুর ও কাফরুল এলাকায় কিলার আব্বাস ও মফিজুর রহমান মামুনদের তৎপরতায় ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে মোহাম্মদপুর ও রায়েরবাজার এলাকাটি এখন কিশোর গ্যাং ও পেশাদার খুনিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ফার্মগেট ও কাওরান বাজারের টেন্ডার বাণিজ্যের দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বাদশাহ ও রবিন গ্রুপ, আর ধানমণ্ডি এলাকায় আধিপত্য নিয়ে পিচ্চি হেলাল ও ইমনের মধ্যে চরম বিরোধ চলছে।
ভয়ংকর তথ্য হলো, অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী দেশ থেকে পালিয়ে দুবাই, থাইল্যান্ড, ভারত ও সুইডেনে বসে আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। ফোনের ওপাশ থেকে ব্যবসায়ীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং চাঁদা দিতে অস্বীকার করলেই সরাসরি খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, প্রকাশ্যে গুলির এই ঘটনা রাষ্ট্রের মৌলিক নিরাপত্তার ওপর বড় আঘাত। পুলিশ সজাগ থাকার দাবি করলেও একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও ঘাতকদের গ্রেপ্তার করতে না পারার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মনে আস্থার সংকট তৈরি করছে।
