নিজস্ব প্রতিনিধি : বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) প্রকাশিত ‘বৈশ্বিক গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচক-২০২৬’-এ বাংলাদেশের অবস্থানের তিন ধাপ অবনতি হয়েছে। ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এবার ১৫২তম, যা গত বছর ছিল ১৪৯তম। এ বছর বাংলাদেশের প্রাপ্ত স্কোর ৩৩.০৫, যা গত বছরের ৩৩.৭১ এর চেয়েও কম।
আরএসএফ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা বিশ্বে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অর্ধেকেরও বেশি দেশ ‘কঠিন’ বা ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আইনি কাঠামো, অর্থনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট এবং নিরাপত্তা—এই পাঁচটি সূচকের ভিত্তিতে করা এই মূল্যায়নে বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভি, বাংলাদেশ বেতার এবং সংবাদ সংস্থা বাসস কার্যত সরকারি প্রচারযন্ত্র হিসেবে কাজ করে এবং এদের কোনো সম্পাদকীয় স্বাধীনতা নেই। বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর মালিকানা অল্প কয়েকজন বড় ব্যবসায়ীর হাতে থাকায় তারা সম্পাদকীয় স্বাধীনতার চেয়ে সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকেই অগ্রাধিকার দেন।
নিরাপত্তার বিষয়ে আরএসএফ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, বাংলাদেশে পুলিশি সহিংসতা, রাজনৈতিক হামলা এবং অপরাধী গোষ্ঠীর পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মুখে সাংবাদিকরা চরম অসুরক্ষিত। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শুরু হওয়া রাজনৈতিক শুদ্ধি অভিযানের সময় ১৩০ জনেরও বেশি সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মামলার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচজন আটক রয়েছেন।
দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান ১৫৩তম (স্কোর ৩২.৬১) এবং ভারত ১৫৭তম (স্কোর ৩১.৯৬) অবস্থানে রয়েছে। এবারের সূচকে ৯২.৭২ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে এবং ১০.২৪ স্কোর নিয়ে ১৮০তম অবস্থানে অর্থাৎ তালিকার সর্বনিম্নে রয়েছে ইরিত্রিয়া।
