নিজস্ব প্রতিনিধি : দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চরম দুঃসংবাদ পেলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির পরিবার। নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর নাহিদা বৃষ্টি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তাঁর ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত।
শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তার মাধ্যমে তিনি এই হৃদয়বিদারক তথ্য জানান।
নাহিদা বৃষ্টির ভাই জানান, মার্কিন পুলিশ তাকে ফোন করে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজন ব্যক্তির বাসার ভেতর রক্তের মাঝে পাওয়া একটি দেহাংশের ডিএনএ পরীক্ষার পর নাহিদার মরদেহের সঙ্গে সেটির মিল পাওয়া গেছে।
তবে মরদেহের পূর্ণাঙ্গ অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি।
এই একই ঘটনায় এর আগে নিখোঁজ হওয়া অপর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনেরও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে ফ্লোরিডার হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। গত শুক্রবার স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জানায়, ফ্লোরিডার ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে জামিলের দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
একই সময়ে নিখোঁজ হওয়া দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ খণ্ডিত অবস্থায় উদ্ধারের এই ঘটনা পুরো বিশ্বের বাংলাদেশি কমিউনিটিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৩তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত ছিলেন।
গত ১৬ এপ্রিল লিমনের টাম্পার বাসা থেকে তাকে সর্বশেষ দেখা যাওয়ার পর থেকেই তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন।
এই নৃশংস জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুগারবিয়েহ নামক এক মার্কিন নাগরিককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। খুনি হিশামের বাসা থেকেই মূলত নাহিদার মরদেহের নমুনা ও রক্তের দাগ পাওয়া গেছে।
দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন করুণ পরিণতির খবরে নোবিপ্রবিসহ দেশের শিক্ষাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ উদঘাটনে মার্কিন প্রশাসন কঠোর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
