চ্যানেল ১৪ ডেস্কঃ চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে একটি গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ লিখে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও শিবিরের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের প্রভাব পড়েছে দেশের বড় বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে।
চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ঘটনার প্রতিবাদে আজ বুধবার ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা নতুন করে দেয়াললিখন ও গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচি পালন করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিন, কলাভবন, ডাকসু প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন আবাসিক হলের দেয়ালে আজ নতুন নতুন গ্রাফিতি ও স্লোগান দেখা গেছে। ঢাবি ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী জানান, এটি কেন্দ্রীয় কোনো কর্মসূচি নয়, বরং কর্মীরা নিজ উদ্যোগে এটি বাস্তবায়ন করছেন।
সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবিদুর রহমান মিশু বলেন, “গোপন রাজনীতির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ গ্রাফিতি কর্মসূচিতে শিবিরের হামলা গণতান্ত্রিক চর্চার ওপর সরাসরি আঘাত। আমরা সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান অব্যাহত রাখব।”

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও (জাবি) একই চিত্র দেখা গেছে। জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবরের নেতৃত্বে বটতলা সড়ক, শহীদ সালাম বরকত হল ও টিএসসি সংলগ্ন দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকা হয়। জাবি ছাত্রদল নেতা মো. রুবেলের দাবি, শিবির দীর্ঘদিন ধরে গোপন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তারা যতদিন এটি পরিহার না করবে, ততদিন তাদের ‘গুপ্ত শিবির’ হিসেবেই উল্লেখ করা হবে। এছাড়া তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিবিরের অতীত ও বর্তমান কমিটির তালিকা প্রকাশের দাবি জানান।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) মঙ্গলবার রাত থেকেই ‘গুপ্ত থেকে পানাহ চাই’ স্লোগান সম্বলিত গ্রাফিতি কর্মসূচি শুরু হয়। ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে বড় অক্ষরে এসব গ্রাফিতি লেখা হয়েছে। চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, “ক্যাম্পাস হওয়া উচিত মুক্তচিন্তার জায়গা, কোনো নির্দিষ্ট উগ্র গোষ্ঠীর ঘাঁটি নয়। কেউ যদি সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগ কাজে লাগিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়, ছাত্রদল তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করবে।
” তবে চবি শিবির সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি সবাইকে উসকানিমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কাউকে ‘গুপ্ত’ আখ্যায়িত করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে না।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও (জবি) বিকেলে প্রতিবাদী দেয়াললিখন কর্মসূচি পালন করা হয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের দেয়ালে ‘গুপ্ত যাদের অবস্থান, তাদের বাড়ি পাকিস্তান’সহ বিভিন্ন স্লোগান ছান্নেল জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর গড়ে ওঠা নতুন বাংলাদেশে কোনো গোপন বা ছায়ারাজনীতি সহ্য করা হবে না। সব ছাত্রসংগঠনের উচিত স্বচ্ছ রাজনীতির চর্চা করা। উল্লেখ্য, গতকাল চট্টগ্রামে গ্রাফিতির লেখা পরিবর্তন কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছিলেন।
