নিজস্ব প্রতিনিধি :
আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও কারাবন্দিদের মুক্তি পেতে যে অবর্ণনীয় ভোগান্তি পোহাতে হয়, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ‘আউট স্পোকেন আনিস আলমগীর’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের ডিজিটাল উদ্যোগ সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ে পুলিশি বাধার কারণে কারাবন্দিদের ভোগান্তি যেন শেষ হচ্ছে না। এই অচলবস্থা কাটাতে তিনি স্বরাষ্ট্র এবং আইন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি শক্তিশালী সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছেন।
আনিস আলমগীর তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে ‘ই-বেইলবন্ড’ বা ইলেকট্রনিক জামিননামা পদ্ধতি চালুর ঘোষণা দিয়েছেন, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানও জানিয়েছেন যে, জামিন পরবর্তী অফিশিয়াল স্তর ১২টি থেকে কমিয়ে ২-৩ ধাপে আনা হয়েছে। তবে কাগজের এই উন্নয়ন বাস্তবতার কাছে হেরে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, থানার ওসিকে ‘কন্ট্রাক্ট’ করা ছাড়া বর্তমানে জেল থেকে মুক্তি পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার ক্লিয়ারেন্স মিললেও শেষ মুহূর্তে আসামিকে পুরনো কোনো মামলায় কিংবা ‘অজ্ঞাতনামা’ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। এই অনৈতিক সিস্টেম ও ঘুষের পাহাড় ডিঙিয়ে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে তিনি মন্তব্য করেন। আইনমন্ত্রীর সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন হওয়ায় দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আনিস আলমগীর তাঁর পোস্টে আরও বলেন, আদালতের প্রসিকিউশন এবং জেল গেটের ‘কন্টাক্ট কালচার’ বন্ধ না হলে আইনের শাসন কেবল কিতাবি বুলি হয়েই থাকবে। বিচার বিভাগ স্বাধীন হলেও মাঠ পর্যায়ে পুলিশি হয়রানির কারণে সাধারণ মানুষ এর সুফল পাচ্ছে না। মুক্তির পথে এই ‘অদৃশ্য দেয়াল’ ভেঙে ফেলার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বিগত সরকারের আমলের মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ড. ইউনূসের আমলে বিনা কারণে হাজার হাজার মানুষকে ভুয়া মামলায় জেলে পাঠানো হয়েছে। অতীতে আওয়ামী লীগ আমলে যেভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলা পর্যালোচনা করে বাদ দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সময়েও ঠিক সেই রকম একটি কার্যকর পর্যালোচনা ব্যবস্থা চালু করা এখন সময়ের দাবি বলে তিনি মনে করেন।
